ই-পেপার |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  মঙ্গলবার | ২৩ জুন ২০২৬ | ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ 

সর্বশেষ আপডেট: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ২০:৫৯
চলমান বার্তা:
ফ্রান্সে তীব্র তাপপ্রবাহ, ২ দিনে ১৮ জনের মৃত্যু
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ১৫:৪৩ আপডেট: ২৩.০৬.২০২৬ ১৯:৫৫  (ভিজিটর : )

রেকর্ডভাঙা গরম ও টানা তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত ফ্রান্স। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে মাত্র দুই দিনে তীব্র গরমে কমপক্ষে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে দুই শিশুও রয়েছে।

ফ্রান্সের আবহাওয়া দপ্তর ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জনবহুল বন্দরনগরী বোর্দোয় গত রোব ও সোমবার তাপমাত্রা পৌঁছেছিল ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। বোর্দোর ইতিহাসে এর আগে কখনো তাপমাত্রা এই পর্যায়ে পৌঁছায়নি। রেকর্ড এই গরম ও তাপপ্রবাহের কারণে শুধু এই শহরটিতেই ৩ জন প্রবীণ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে, যাদের বয়স ৮০ থেকে ৯৫ বছরের মধ্যে।

এছাড়া দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জেলা কার্পেন্ত্রাসে তীব্র গরমে গাড়ির ভেতর আটকে পড়ে মারা গেছে ২ ও ৪ বছর বয়সী দুটি শিশু। বাকি ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে পানিতে ডুবে। তীব্র গরমে একটু স্বস্তির খোঁজে ফ্রান্সের সাধারণ মানুষ নদী, হ্রদ ও সাগরসহ বিভিন্ন জলাশয়ে নেমে দীর্ঘ সময় কাটাচ্ছেন, যার ফলে এই সলিলসমাধির ঘটনা ঘটছে।

ফ্রান্সের বেসামরিক নিরাপত্তা পরিষেবা বিভাগের মুখপাত্র জেরোম বওল্যাঙ্গার রয়টার্সকে এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমরা লোকজনকে বারবার অনুরোধ করছি, তারা যেন কেবল কর্তৃপক্ষের নজরদারির আওতায় থাকা নিরাপদ জলাশয়গুলোতেই সাঁতার কাটেন।’

তীব্র গরমের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ফ্রান্সের স্কুল ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদানের সময়সূচিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

ওমেগা ব্লকের কবলে ইউরোপ: স্পেনে ৪০, যুক্তরাজ্যে ৩৯ ডিগ্রি

এবারের জুনে শুধু ফ্রান্স নয়, পুরো ইউরোপজুড়েই শুরু হয়েছে নজিরবিহীন তাপপ্রবাহ। স্পেনের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ স্যান সেবাস্তিয়ান ভৌগোলিক ও ঐতিহ্যগতভাবে বেশ শীতল অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। জুন মাসের ভরপুর গ্রীষ্মেও সাধারণত সেখানকার তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচেই থাকে। কিন্তু এবারের গ্রীষ্মে সেই চেনা চিত্র পুরোপুরি উল্টে গেছে। 

স্পেনের আবহাওয়া দপ্তরের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, গতকাল (২২ জুন) স্যান সেবাস্তিয়ানের তাপমাত্রা ছুঁয়েছে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এদিকে রেকর্ডভাঙা গরমে পুড়ছে যুক্তরাজ্যও। দেশটিতে এর আগে সর্বোচ্চ উষ্ণ জুনের রেকর্ড হয়েছিল ১৯৫৭ এবং ১৯৭৬ সালে। ওই দুই বছর তাপমাত্রা উঠেছিল ৩৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অথচ এবারের জুনে গত সপ্তাহেই যুক্তরাজ্যজুড়ে তাপমাত্রা স্থানভেদে ৩৬ ডিগ্রি থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়েছে।

কেন এই চরম আবহাওয়া?

লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের চরম আবহাওয়া ও জলবায়ু বিষয়ক গবেষক ক্লেয়ার বার্নস রয়টার্সকে বলেন, ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে যে তাপপ্রবাহ চলছে, তা আবহাওয়াবিদ্যায় ‘ওমেগা ব্লক’ নামে পরিচিত।

ওমেগা ব্লক কী

এটি এমন একটি বিশেষ আবহাওয়া পরিস্থিতি, যেখানে একটি বিশাল অঞ্চলের মাঝখানে গরম বাতাসের একটি স্ফীতি বা বলয় তৈরি হয় এবং তার দুপাশে থাকে শীতল বাতাস।

বর্তমানে ইউরোপ যে ওমেগা ব্লকের মধ্যে রয়েছে, সেটি উত্তর আফ্রিকা ও সাহারা মরুভূমি থেকে প্রচণ্ড উষ্ণ বাতাস টেনে আনছে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি খুব ধীরগতিতে চলায় সেখানে স্বস্তি দেওয়ার মতো কোনো বাতাস বা মৃদু হাওয়া নেই।

এই জলবায়ু গবেষক আরও সতর্ক করে বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই এই ধরনের তাপপ্রবাহ ও ঝড় দিন দিন আরও তীব্র হচ্ছে, যা বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা এবং অতিবৃষ্টি- উভয় সংকটকেই আশঙ্কাজনকভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে।

দেশবার্তা/একে
মতামত লিখুন:
আরও পড়ুন 
https://thedailydeshbarta.com/ad/1781938701_RightPanelSquare.jpg
Loading...
Loading...
দেশবার্তা    বিজ্ঞাপন    সার্কুলেশন    শর্তাবলি ও নীতিমালা    গোপনীয়তা নীতি    যোগাযোগ   
স্বত্ব © ২০২৬ দেশ বার্তা | সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।