প্রায় দুই মাসের যুদ্ধবিরতির পর আবারও ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাত শুরু হয়েছে। এদিকে, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরাও ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছে। নতুন করে শুরু হওয়া এই সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (৮ জুন) উভয় দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি থাকা সৌদি আরবের একটি এলাকার দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরান ইসরায়েলের দিকে দুই দফায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। হামলার সময় ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করার চেষ্টা করেছে। তারপরও ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
এর আগে, সোমবার ভোরে ইসরায়েল মধ্য ও পশ্চিম ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়। তাদের দাবি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে এই হামলা চালানো হয়। গত ৮ এপ্রিল কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর এটিই দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক সংঘর্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কয়েকদিন আগে ইসরায়েলকে সংযত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছিল। সে আহ্বান উপেক্ষা করে স্থানীয় সময় রবিবার (৭ জুন) বৈরুতের দক্ষিণ উশহরে হামলা চালায় ইসরায়েল। এর পরপরই ইরান পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের এই হামলা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক। এর আগে, ট্রাম্প বেনিয়মিন নেতানিয়াহুকে বলেছিলেন, ইসরায়েলের আর কোনো পাল্টা হামলার প্রয়োজন নেই।
ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি হুথিদের
এদিকে, ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, লোহিত সাগরে চলাচলকারী ইসরায়েলের জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে আবারও তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হবে।
হুথিদের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহইয়া সারির হামলার এ বিবৃতি গোষ্ঠীটির নিয়ন্ত্রিত আল-মাসিরাহ স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচার করা হয়।
ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে হুথিদের এই ঘোষণায় আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এ সময় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার কথা থাকলেও সাম্প্রতিক এসব ঘটনার কারণে সেখানের পরিস্থিতি আবারও অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে।
হামলার দায় স্বীকার ইরানের, লক্ষ্যবস্তু ছিল ইসরায়েলের সামরিক ঘাঁটি
অপরদিকে, ইসরায়েলের ওপর সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দায় স্বীকার করেছে ইরান। দেশটির দাবি, ইসরায়েলের দুটি সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে তারা হামলা চালিয়েছে।
ইরানের আধাসামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানায়, অপারেশন নাসর বা বিজয় নামের অভিযানের অংশ হিসেবে এ হামলা চালানো হয়।
আইআরজিসি আরও জানায়, এর আগে, ইসরায়েল ইরানের তিনটি অঞ্চলের রাডার স্থাপনায় হামলা চালায়। এর জবাবে তাদের সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। তবে হামলার এলাকাগুলোর অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি তারা।
ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় হামলার দাবি ইসরায়েলের
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের একটি পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে হামলা চালিয়েছে। তবে হামলার ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে তারা বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
অন্যদিকে, ইরানের আধাসরকারি ফার্স ও মেহর বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, দেশটির খুজেস্তান প্রদেশের মাহশাহর শহরে অবস্থিত একটি পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় ইসরায়েলি হামলা হয়েছে। তবে ওই হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কী না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইসরায়েলের প্রধান পারমাণবিক গবেষণাকেন্দ্রের কাছে সতর্ক সংকেত
ইসরায়েল জানিয়েছে, সোমবার সকালে ইরান থেকে ইসরায়েলের মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।
এ সময় মধ্য ইসরায়েলের আকাশে জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। একই সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের দিমোনা ও আরাদ শহরের কাছেও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। এত বহু সংখ্যক মানুষ আহত হন। দিমোনা শহরে ইসরায়েলের প্রধান পারমাণবিক গবেষণাকেন্দ্র অবস্থিত, যা ১৯৫৮ সালে চালু হয়।
ইসরায়েলের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে বলে ধারণা করে থাকেন কূটনৈতিকরা। যদিও, দেশটির নেতারা কখনোই বিষয়টি স্বীকার করেননি।
দেশবার্তা/একে