বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারা কুক শনিবার (২০ জুন) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। হাইকমিশনার ২০২৬-২৭ মেয়াদের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
উভয় পক্ষ গভীর ঐতিহাসিক সম্পর্ক, শক্তিশালী জনগণের মধ্যে সংযোগ এবং প্রাণবন্ত ব্রিটিশ-বাংলাদেশি প্রবাসীদের কথা সন্তোষের সঙ্গে উল্লেখ করেছে, যা দুদেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে চলেছে। তারা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শিক্ষা, অভিবাসন এবং দক্ষতা উন্নয়নসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলোতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রতি যুক্তরাজ্যের অব্যাহত সমর্থনের প্রশংসা করেছেন এবং মিয়ানমারে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় যুক্তরাজ্যকে তার নেতৃত্বের ভূমিকা বজায় রাখার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান গতিতে উভয় পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করে এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয়ে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে বৈঠকটি শেষ হয়।
বৈঠকের পর ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারা কুক সাংবাদিকদের বলেন, গত সপ্তাহে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের ধারাবাহিকতায় আজ আলোচনা হয়েছে। সেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অভিবাসনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থী পরিস্থিতি নিয়ে উভয় দেশ বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছে এবং এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ যৌথ অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হচ্ছে, যার জন্য টেকসই আন্তর্জাতিক মনোযোগ প্রয়োজন।
কুক জানান, বৈঠকটি ছিল ফলপ্রসূ ও ভবিষ্যতমুখী এবং উভয় পক্ষই একমত হয়েছে যে অংশীদারত্ব আরও এগিয়ে নেওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, আলোচনাকে বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দিতে আগামী সপ্তাহগুলোতে কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
দেশবার্তা/একে