প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে রোববার রাতে মালয়েশিয়া পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুই দিনের এই সফরে তাঁর সঙ্গে আছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (কেএলআইএ) অবতরণ করে।
বিমানবন্দরে মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী ড. জুলকিফলি হাসান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভ্যর্থনা জানান। পরে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীকে মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়। এ সময় মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরীসহ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে রোববার দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
মালয়েশিয়ায় দুই দিনের সফর শেষ করে সোমবার রাতে চীনের বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হবেন তারেক রহমান। ২২ থেকে ২৬ জুন চীন সফর শেষে শুক্রবার (২৬ জুন) তাঁর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
সরকারপ্রধানের চীন সফরে দুই দেশের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), দুটি চুক্তি, একটি অ্যাকশন প্ল্যান এবং প্রটোকল সংক্রান্ত একটি নোটসহ প্রায় ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপক্ষীয় নথিতে সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হিসেবে থাকবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের চারটি বৈশ্বিক উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে বিবেচনা করছে ঢাকা। তবে এই চার উদ্যোগের মধ্যে বাংলাদেশ এই সফরেই কোনোটিতে যুক্ত হচ্ছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
সফরকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর সফরে সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনার কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম। তিনি বলেন, ‘সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা একটা আলোচনার বিষয়। আমি ধারণা করি, সেই আলোচনা অনেক বিস্তৃত এবং সম্প্রসারিত হবে। তিস্তা নিয়ে আলোচনা হবে, আমরা বিষয়টি তুলব।’
তবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হলেও এই সফরে এ সংক্রান্ত কোনো সমঝোতা স্মারক সই হবে না বলে স্পষ্ট করেন পররাষ্ট্রসচিব।
দেশবার্তা/এসবি/একে