দখল ও দূষণের কারণে চরম অস্তিত্বসংকটে পড়েছে চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহ্যবাহী জলাধার আসকার দিঘি। একসময় স্থানীয় মানুষের পানির চাহিদা মেটানো এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী এই দিঘিটি এখন নানা সমস্যায় জর্জরিত। অবৈধ দখল, ময়লা-আবর্জনা ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দিন দিন এর আয়তন ও সৌন্দর্য কমছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দিঘির চারপাশে বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে ওঠার পাশাপাশি কিছু অসাধু ব্যক্তি ধীরে ধীরে দিঘির জায়গা দখল করে নিচ্ছেন। আশপাশের বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বর্জ্য এবং সুয়ারেজ লাইনের সংযোগ সরাসরি দিঘিতে দেওয়ায় পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়েছে। এতে জলজ প্রাণীর অস্তিত্বও হুমকির মুখে।
ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ১৬৬৯ থেকে ১৬৭১ সাল পর্যন্ত মোগল বাংলার সুবাহদার শায়েস্তা খানের আমলে চট্টগ্রামের শাসনকর্তা ছিলেন আসকার খাঁ। তাঁর নামানুসারেই এই প্রাচীন জলাশয় ও আশপাশের এলাকার নামকরণ করা হয় ‘আসকার দিঘি’।
১৮৯৮ সালের হিসাব অনুযায়ী দিঘিটির আয়তন ছিল সাড়ে ৮ একর। তবে বছরের পর বছর ধরে দখল, দূষণ ও ভরাটের কারণে বর্তমানে এটি সংকুচিত হয়ে ৫ একরেরও নিচে নেমে এসেছে।
সম্প্রতি এই দিঘি রক্ষার দাবিতে ‘চট্টগ্রাম বাঁচাও আন্দোলন’ এর উদ্যোগে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের প্রধান সমন্বয়কারী সৌরভ প্রিয় পালের সভাপতিত্বে ও সৈয়দ সাফাওয়ান আলীর সঞ্চালনায় এতে বক্তারা বলেন, একসময় এলাকাবাসী আসকার দিঘির পানি ব্যবহার করত, এটি ভালো মাছের উৎস ছিল। কিন্তু এখন এটি ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়। পুরো দিঘি কচুরিপানায় ভরে গেছে।
সৌরভ প্রিয় পাল বলেন, ‘দিঘি ও পুকুরগুলো ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ধরে রাখতে সহায়তা করে। আসকার দিঘির বর্তমান অবস্থা অব্যাহত থাকলে এলাকার পরিবেশ মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে। এটি রক্ষায় সিটি করপোরেশন, সিডিএ, জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।’
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মেট্রো কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোক্তাদির হাসান বলেন, ‘আস্কার দিঘি মূলত পুরোপুরি দখল হয়নি, পাড়ের কিছু অংশে ঘরবাড়ি হয়েছে। তবে মূল অংশে যেখানে পানি থাকার কথা, সেখানে প্রচুর ময়লা-আবর্জনা জমেছে। সিটি করপোরেশন এটি পরিষ্কারের উদ্যোগ নিতে পারে। যারা আবর্জনা ফেলছে, তাদের শুধু আইনিভাবে ঠেকানো মুশকিল, জনসচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।’
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) উপপ্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা প্রণব শর্মা বলেন, ‘আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে ম্যাজিস্ট্রেটের হস্তক্ষেপ জরুরি। অনেক সময় জনবলসংকটে আমরা চাইলেও সব করতে পারি না। তবে বর্জ্য অপসারণের জন্য কিছু লোক নিয়োগ দেওয়া হবে। এটি পরিষ্কার ও দখলমুক্ত করে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করতে পারলে নাগরিক সেবায় অনেক কাজে লাগবে।’
প্রতিনিধি/একে