ই-পেপার |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  বুধবার | ২৪ জুন ২০২৬ | ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ 

সর্বশেষ আপডেট: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১৯:৪৪
চলমান বার্তা:
মানুষের কাছ থেকেই লিঙ্গবৈষম্য ও বর্ণবাদ শিখছে এআই: জাতিসংঘ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১৯:৪৪  (ভিজিটর : )
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মানুষের চেয়েও বেশি বুদ্ধিমান হতে যাচ্ছে- প্রতিনিয়ত এমনটাই শুনছেন প্রযুক্তিপ্রেমীরা। এমনকি কিছু কিছু ক্ষেত্রে এআই ইতোমধ্যে মানুষকে ছাড়িয়ে গেছে বলেও দাবি করেছেন ইলন মাস্কের মতো শীর্ষ উদ্যোক্তারা। তবে জাতিসংঘের নতুন এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক ভিন্ন ও ভয়াবহ আশঙ্কার কথা। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানবজাতির কিছু কুৎসিত কুসংস্কার ও বৈষম্যমূলক আচরণ উত্তরাধিকারসূত্রে গ্রহণ করছে।

জাতিসংঘের লিঙ্গ সমতা ও নারীর ক্ষমতাবিষয়ক সংস্থা ‘ইউএন উইমেন’-এর গবেষকেরা ১৩৩টি এআই সিস্টেম পরীক্ষা করে দেখেছেন। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক অর্থাৎ ৪৪ শতাংশ সিস্টেমে লিঙ্গবৈষম্যের স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে। অন্যদিকে, এক-চতুর্থাংশের বেশি সিস্টেমে একই সঙ্গে লিঙ্গবৈষম্য ও বর্ণবাদ-উভয়েরই উপস্থিতি পাওয়া গেছে। 

গবেষণায় দেখা গেছে, লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলগুলো (এলএলএম) বারবার নারীদের ঘরবাড়ি, পরিবার ও সন্তান লালন-পালনের সঙ্গে যুক্ত করছে, আর পুরুষদের যুক্ত করছে ব্যবসা, নেতৃত্ব ও কর্মজীবনে সফলতার সঙ্গে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এআই এমন সব উত্তর তৈরি করেছে, যেখানে নারীদের কেবলই যৌনতার বস্তু কিংবা পুরুষের অধীনস্ত হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে।

ইউএন উইমেনের তথ্য অনুযায়ী, গবেষকেরা যখন লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলগুলোকে কোনো ব্যক্তির লিঙ্গ দিয়ে শুরু হওয়া একটি বাক্য সহজভাবে সম্পন্ন করতে বলেছিলেন, তখন প্রতি পাঁচটি উত্তরের মধ্যে প্রায় একটি উত্তর লিঙ্গবৈষম্যমূলক বা নারীবিদ্বেষী হিসেবে এসেছে। এমনকি কিছু উত্তর নারীদের সম্পত্তি বা বস্তু হিসেবেও বর্ণনা করেছে।

সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়েছে, এটি এআই-এর কোনো কারিগরি ত্রুটি বা ‘বাগ’ নয়। এআই মূলত ইন্টারনেট থেকে এসব শিখছে, যা গত কয়েক দশকের নানা রকম গৎবাঁধা ধারণা, কুসংস্কার ও বৈষম্যে ভরপুর। ফলে মানুষের তৈরি ইতিহাসের ওপর ভিত্তি করে প্রশিক্ষণ নিয়ে এআই শেষ পর্যন্ত মানুষের সেই পক্ষপাতগুলোকেই পুনরায় ফুটিয়ে তুলছে।

ইউএন উইমেনের ডিজিটাল প্রযুক্তিবিষয়ক প্রধান জয়তমা বিক্রমনায়েকে বলেন, এআই মডেলগুলো মানুষের দ্বারা এবং মানুষকে নিয়ে লেখা বহু দশকের টেক্সট থেকে এসব পক্ষপাত শিখছে। আর এগুলো নেওয়া হয়েছে এমন এক সময়ের দুনিয়া থেকে, যেখানে নারীদের স্থান দেওয়া হয়েছিল প্রধানত ঘর ও পরিবারে এবং পুরুষদের স্থান দেওয়া হয়েছিল ব্যবসা ও কর্মজীবনে।

প্রতিবেদনে বিশেষভাবে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, নারীরা ইতোমধ্যে অনলাইনে অসম মাত্রায় হয়রানির মুখোমুখি হচ্ছেন এবং এআইয়ের মাধ্যমে কিছু কিছু সহিংসতার রূপ তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়া আরও সহজ হয়ে উঠছে। জরিপে অংশ নেওয়া নারী মানবাধিকার কর্মী, সমাজকর্মী ও নারী সাংবাদিকদের মধ্যে প্রায় প্রতি চারজনের একজন এআইয়ের সহায়তায় অনলাইন সহিংসতার শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন। 

এর মধ্যে ১২ শতাংশ জানিয়েছেন, তাদের সম্মতি ছাড়াই ব্যক্তিগত ছবি শেয়ার করা হয়েছে এবং ৬ শতাংশ নারী ডিপফেক বা বিকৃত ছবি ও ভিডিওর মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন।

গবেষকেরা অনেক সিস্টেমজুড়ে বর্ণবাদী পক্ষপাতও খুঁজে পেয়েছেন, যা এই উদ্বেগ বাড়িয়ে দিচ্ছে যে এআই কেবল নারীদেরই নয়, বরং বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীকে নিয়ে প্রচলিত গৎবাঁধা কুসংস্কারগুলোকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে। 

কোটি কোটি মানুষের ই-মেইল লেখা, প্রেজেন্টেশন ও কনটেন্ট তৈরি এবং প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার কাজে যেহেতু দিন দিন এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে, তাই এই বৈষম্যমূলক অ্যালগরিদমের মাধ্যমে বিদ্যমান সামাজিক অসমতাগুলো আরও বেশি সুদৃঢ় হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এআইয়ের জীবনচক্রের প্রতিটি স্তরে- উন্নয়ন থেকে শুরু করে তা বাস্তবায়ন এবং নীতি নির্ধারণের প্রতিটি ধাপে লিঙ্গ সমতা এবং নারী ও কন্যাশিশুদের অধিকারের বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে ইউএন উইমেন। সূত্র: এনডিটিভি

দেশবার্তা/একে

মতামত লিখুন:
আরও পড়ুন 
https://thedailydeshbarta.com/ad/1781938701_RightPanelSquare.jpg
Loading...
Loading...
দেশবার্তা    বিজ্ঞাপন    সার্কুলেশন    শর্তাবলি ও নীতিমালা    গোপনীয়তা নীতি    যোগাযোগ   
স্বত্ব © ২০২৬ দেশ বার্তা | সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।