ই-পেপার |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  শনিবার | ৪ জুলাই ২০২৬ | ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ 

সর্বশেষ আপডেট: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ২১:৫০
চলমান বার্তা:
ইরানি মধ্যস্থতাকারীদের গুপ্তহত্যার ষড়যন্ত্র করছিল ইসরায়েল; তেহরানকে সতর্ক করে দেয় যুক্তরাষ্ট্র!
দেশবার্তা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ১৭:৪০  (ভিজিটর : )

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা চলাকালে তেহরানের শীর্ষ মধ্যস্থতাকারীদের হত্যার পরিকল্পনা করেছিল ইসরায়েল। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যখন অত্যন্ত সংবেদনশীল আলোচনা চলছিল, তখন ইসরায়েল এই ছক কষেছিল বলে মনে করেন বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভিন্ন অবস্থান

যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইরানের শীর্ষ নেতাদের হত্যা করা ইসরায়েলের রণকৌশলের অংশ ছিল। তবে গত এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফকে লক্ষ্যবস্তু করার ইসরায়েলি পরিকল্পনায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তাদের আশঙ্কা ছিল, ইসরায়েল এই দুই নেতাকে হত্যা করলে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাবে এবং নতুন করে যুদ্ধ শুরু হবে। এই আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র কয়েকটি আঞ্চলিক দেশের মাধ্যমে ইরানকে সতর্কবার্তা পাঠায়।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, যুদ্ধের শুরুর দিকে ইসরায়েল ইরানের কট্টরপন্থী সরকারকে উৎখাত করতে চেয়েছিল। তখন আরাগচি বা গালিবাফ ইসরায়েলের জন্য বৈধ লক্ষ্যবস্তু হতে পারতেন। তবে এপ্রিল থেকে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা নিহত হওয়ার পর এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। যুক্তরাষ্ট্র তখন ইরানের নৌ ও অন্যান্য বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালালেও ইসরায়েলের অগ্রাধিকার ছিল শীর্ষ নেতৃত্বকে নির্মূল করা।

এরই অংশ হিসেবে ইসরায়েল ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল খারাজিকে হত্যা করে। অথচ বাস্তববাদী নেতা হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন তাদের সঙ্গেই আলোচনার আশা করেছিল। এই ঘটনাগুলো থেকে বোঝা যায়, যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্য এক থাকলেও দ্রুতই তা ভিন্ন পথে এগোতে শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্র যেখানে শান্তি চুক্তি চাইছিল, ইসরায়েল সেখানে শুরু থেকেই সন্দিহান ছিল।


এপ্রিলের দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির প্রতি ইসরায়েলের সমর্থন ছিল নামমাত্র। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র খুব দ্রুত যুদ্ধ শেষ করে দিচ্ছিল। তারা মনে করেন, ইরান সরকার উৎখাত হওয়ার বদলে আরও কট্টর হয়েছে এবং বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংহত হয়েছে।

গত জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এর লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার পথ প্রশস্ত করা। তবে ইসরায়েলি বিশ্লেষকরা একে 'বিপর্যয়' হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এই চুক্তি ইরান সরকারকে উৎখাত, দেশটির ছায়া গোষ্ঠীগুলোকে নির্মূল বা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস করতে ব্যর্থ হয়েছে। এ ছাড়া চুক্তির ফলে ইরান কোটি কোটি ডলার ফেরত পাবে, যা দিয়ে তারা দ্রুত নিজেদের শক্তি বাড়াতে পারবে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল গত মার্চে জানিয়েছিল, আরাগচি ও গালিবাফ ইসরায়েলের 'হিট লিস্টে' ছিলেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরু হওয়ায় তাদের নাম সাময়িকভাবে তালিকা থেকে সরানো হয়। এর আগে ২০২৫ সালের জুন এবং চলতি বছরের যুদ্ধে গালিবাফ অন্তত দুইবার মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে ফেরেন। ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, দুইবারই তিনি ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার পান।

এপ্রিলের শেষ দিকে ইসলামাবাদ বৈঠকের পর ইরানি এমপি মহসেন জাঙ্গানে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, 'আজ জনাব গালিবাফ, জনাব আরাগচি এবং আলোচক দলের অন্য সদস্যরা মারাত্মক নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা জেনেও তাদের জীবন বাজি রেখেছেন। একে রাজনৈতিক চালবাজি নয়, বরং প্রকৃত ত্যাগ বলা হয়।'

আকাশপথে ইসরায়েলি হুমকি

এপ্রিলে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার সময় বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কা করেছিল তেহরান। ইরানিরা পাকিস্তান ও কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গ্যারান্টি চেয়েছিল যে ইসরায়েল যেন তাদের ওপর কোনো গোপন হামলা না চালায়। সে সময় পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান ইরানি প্রতিনিধিদলকে পাহারা দিয়ে ইসলামাবাদে নিয়ে যায় এবং পরে ফিরিয়ে দিয়ে আসে। 

তবে তেহরানে ফেরার পথে গালিবাফকে বহনকারী বিমানটি বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়ে। বিমানে থাকা কর্মকর্তাদের জানানো হয় যে দুটি ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ইরাক সীমান্ত দিয়ে ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছে। গালিবাফের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মদী এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এ সময় বিমানটি মাশহাদে জরুরি অবতরণ করে এবং প্রতিনিধিদল সড়কপথে আট ঘণ্টা ভ্রমণ করে তেহরানে ফেরেন।



মতামত লিখুন:
আরও পড়ুন 
https://thedailydeshbarta.com/ad/1781938701_RightPanelSquare.jpg
Loading...
Loading...
দেশবার্তা    বিজ্ঞাপন    সার্কুলেশন    শর্তাবলি ও নীতিমালা    গোপনীয়তা নীতি    যোগাযোগ   
স্বত্ব © ২০২৬ দেশ বার্তা | সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।