ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৯ জনে দাঁড়িয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোরের দিকে চালানো এই হামলায় আরও অন্তত ৯১ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলায় প্রায় ১৩০টি বহুতল ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একে চলতি বছরে রাজধানীর ওপর চালানো রাশিয়ার সবচেয়ে বড় এবং বিধ্বংসী আক্রমণ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তৈমুর টাকাচেঙ্কো জানিয়েছেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যুর পর কিয়েভে নিহতের সংখ্যা বাড়ে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেক বাসিন্দা আটকে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধারকারী দলগুলো উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
কিয়েভের দিনিপ্রো নদীর বাম তীরের একটি পূর্বাঞ্চলীয় শহরতলী থেকেই পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে এখনও আটজন বাসিন্দা নিখোঁজ রয়েছেন। হামলার ভয়াবহতা বিবেচনা করে কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো আজ কিয়েভ জুড়ে অফিশিয়াল শোক দিবস ঘোষণা করেছেন।
এই বিধ্বংসী হামলার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তাঁর আয়ারল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে দ্রুত দেশে ফিরে আসেন। কিয়েভের অর্ধেক ধ্বংস হয়ে যাওয়া একটি নয়তলা আবাসিক ভবন পরিদর্শন করেন তিনি।
এই ব্যাপক প্রাণহানির জন্য পশ্চিমা মিত্রদের সময়মতো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ না করাকে দায়ী করে জেলেনস্কি বলেন, ‘অংশীদারেরা যদি তাদের প্রতিশ্রুতি সময়মতো রক্ষা করত, তবে আজ আরও অনেক জীবন ও ঘরবাড়ি বাঁচানো সম্ভব হতো।’
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া রাতভর ৭৪টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং রেকর্ডসংখ্যক ৪৯৬টি ড্রোন দিয়ে এই হামলা চালিয়েছে।
বিমান বাহিনীর মুখপাত্র ইউরি ইহনাত স্বীকার করেছেন, এবারের হামলায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা অস্বাভাবিক বেশি ছিল। ইউক্রেনের কাছে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের তীব্র ঘাটতি থাকায় রাশিয়ার এসব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার হার অত্যন্ত কম ছিল।
অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের এই হামলা মূলত কিয়েভের সামরিক অবকাঠামো, জ্বালানি কেন্দ্র এবং বিমানবন্দরগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল।
ইউক্রেনের সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার প্রতিশোধ নিতেই এই পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি মস্কোর। সূত্র: রয়টার্স
দেশবার্তা/একে