ই-পেপার |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  সোমবার | ৬ জুলাই ২০২৬ | ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ 

সর্বশেষ আপডেট: রোববার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ২১:০৪
চলমান বার্তা:
বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক সদর দপ্তর ‘দি অক্টাগন’ উদ্বোধন করলো মিশর
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ১৪:৩৬ আপডেট: ০৫.০৭.২০২৬ ১৮:৩৪  (ভিজিটর : )
ছবি: উইকিপিডিয়া।

ছবি: উইকিপিডিয়া।

বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক ও জাতীয় নিরাপত্তা সদর দপ্তর ‘দি অক্টাগন’ উদ্বোধন করেছে মিশর। দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি জমকালো এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন এই কৌশলগত সামরিক কমান্ড সদর দপ্তরের উদ্বোধন করেন। 

মিশরীয় প্রশাসনের দাবি, আয়তনের দিক থেকে এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তর ‘পেন্টাগন’কেও ছাড়িয়ে গেছে।

প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়া’র একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। শনিবার (৪ জুলাই) এই বিশাল সামরিক কমপ্লেক্সটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মিশরের বর্তমান রাজধানী কায়রো থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার পূর্বে নবনির্মিত ‘নিউ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ক্যাপিটাল’ বা নতুন প্রশাসনিক রাজধানীতে এই সামরিক দপ্তরটি নির্মাণ করা হয়েছে।

এই কমপ্লেক্সটি মূলত মিশরের ‘নিউ রিপাবলিক’ পুনর্গঠন পরিকল্পনার একটি অন্যতম প্রধান অংশ। পুরোনো রাজধানী কায়রোর মাত্রাতিরিক্ত জনঘনত্ব এবং নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি থেকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে দেশটির সরকার।

মিশরীয় কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য মতে, প্রায় ২২ হাজার একর বা ৮৯ বর্গকিলোমিটার বিশাল এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই সামরিক কমপ্লেক্সের মোট ফ্লোর স্পেস প্রায় ৪৭ লাখ বর্গমিটার। বিশাল এই আয়তনের কারণেই এটিকে বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামরিক সদর দপ্তর হিসেবে দাবি করছে কায়রো।

শনিবারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বয়ং প্রেসিডেন্ট আল-সিসি সামরিক পোশাকে উপস্থিত ছিলেন। জমকালো এই আয়োজনে এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি (AH-64 Apache) হেলিকপ্টারের ফ্লাইপাস্ট, দৃষ্টিনন্দন সামরিক কুচকাওয়াজ, বর্ণিল আলোকসজ্জা এবং ১১-গান স্যালুটের (তোপধ্বনি) মাধ্যমে নতুন সদর দপ্তরকে স্বাগত জানানো হয়।

‘দি অক্টাগন’ মূলত ১৩টি সমন্বিত কৌশলগত ও লজিস্টিক জোনের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে। এর মাধ্যমে মিশরের সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং অন্যান্য সার্বভৌম সরকারি প্রতিষ্ঠানের সমস্ত কার্যক্রম এখন থেকে একটি কেন্দ্রীয় কমান্ড কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হবে।

প্রযুক্তিগত দিক থেকেও এই সদর দপ্তর অত্যন্ত আধুনিক। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) সমর্থিত কমান্ড সিস্টেম, অত্যাধুনিক গোয়েন্দা তথ্য সমন্বয় কেন্দ্র, সাইবার নিরাপত্তা ইউনিট এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা একীভূত করা হয়েছে। এর ফলে যেকোনো আঞ্চলিক বা অভ্যন্তরীণ সংকটের সময় দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সমন্বিত সামরিক অভিযান পরিচালনা করা আগের চেয়ে অনেক সহজ হবে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে মিশরের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ইরান, গাজা উপত্যকা, লোহিত সাগর, পূর্ব ভূমধ্যসাগর, লিবিয়া সীমান্ত, সিনাই উপদ্বীপ এবং সামগ্রিক আফ্রিকার বর্তমান জটিল নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে সামনে রেখেই মিশর তাদের সামরিক কমান্ড ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও শক্তিশালী করে তুলছে। আর ‘দি অক্টাগন’ সেই আধুনিকায়নেরই চূড়ান্ত রূপ।

দেশবার্তা/একে
মতামত লিখুন:
আরও পড়ুন 
https://thedailydeshbarta.com/ad/1781938701_RightPanelSquare.jpg
Loading...
Loading...
দেশবার্তা    বিজ্ঞাপন    সার্কুলেশন    শর্তাবলি ও নীতিমালা    গোপনীয়তা নীতি    যোগাযোগ   
স্বত্ব © ২০২৬ দেশ বার্তা | সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।