টাঙ্গাইলের তিন উপজেলায় গত সাত দিনে পাঁচটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়নের কুইজবাড়ি বাজারে এক ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
রোববার (৫ জুলাই) সকালে মাসুদ মিয়া (৪৫) নামে ওই মুদি ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি কুইজবাড়ি গ্রামের লাল মাহমুদের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার ভোরে স্থানীয়রা বিষয়টি ইউপি সদস্য ফরহাদ আলীকে জানালে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। নিহতের শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
এদিকে, গত ১ জুলাই নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর সখিপুর উপজেলা হাসপাতাল গেটের দক্ষিণে নিজ বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে পারভীন আক্তার নামে এক বিধবা নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি উপজেলার হাতিবান্ধা গ্রামের মৃত হুমায়ুন খানের স্ত্রী।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহতের ছেলে ফাহাত চাকরির সুবাদে ঢাকায় থাকেন। এ কারণে পারভীন আক্তার সখিপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে একটি বাসায় একা বসবাস করতেন।
এর আগে সদর উপজেলার বিশ্বাস বেতকা এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে নাজমা আলম নাজু নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় একটি মসজিদের মুয়াজ্জিন মোশারফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, ঋণের চাপ থেকে মুক্তি পেতে স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যে তিনি ওই গৃহবধূকে হত্যা করেন। গ্রেপ্তারের পর তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
অন্যদিকে, নাগরপুর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর শওকত মোল্লা (৫৫) নামে এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ একটি পাটখেত থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের নলসন্ধ্যা গ্রামের মৃত জয়েদ আলী মোল্লার ছেলে। বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে সহবতপুর ইউনিয়নের বিন্নাওঝা গ্রামের গাজী কবিরের পাটখেত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর মধ্যপাড়ায় কাঁঠাল পাড়াকে কেন্দ্র করে চাচাতো দুই ভাইয়ের মধ্যে সংঘর্ষে ছানোয়ার মিয়া নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। তিনি আবু হানিফের ছেলে।
২৮ জুন নিজের গাছ থেকে কাঁঠাল পাড়াকে কেন্দ্র করে চাচাতো ভাইদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে গুরুতর আহত ছানোয়ার মিয়াকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠান। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ উমর ফারুক বলেন, বর্তমান সমাজে সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটেছে। এই অবক্ষয় রোধে সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সচেতনতা বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, পারিবারিক ও সামাজিক শিক্ষা তৃণমূল পর্যায় থেকেই নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমান প্রজন্মের একটি অংশ বিভিন্ন মোবাইল ডিভাইসে অতিমাত্রায় আসক্ত হওয়ায় সামাজিক মূল্যবোধের অবনতি ঘটছে।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. আদিবুল ইসলাম বলেন, পারিবারিক শিক্ষার অভাবে সামাজিক অবক্ষয় উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। আগে অভিভাবকেরা সন্তানদের নিয়মিত খোঁজখবর রাখতেন। বর্তমানে অনেক সন্তান মোবাইল ও বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইসে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করছে, যা তাদের অপরাধপ্রবণতার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তিনি বলেন, সামাজিক অবক্ষয় রোধে অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে এবং প্রয়োজন হলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
প্রতিনিধি/আরএইচ