প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কমিটি পুনর্গঠন করেছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন নীতিমালা অনুযায়ী রোববার এ কমিটি পুনর্গঠন করে অফিস আদেশ জারি করা হয়।
কমিটির সভাপতি করা হয়েছে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তাকে। সদস্য সচিব করা হয়েছে তথ্য অধিদপ্তরের সিনিয়র উপপ্রধান তথ্য অফিসারকে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনকূটনীতি অনুবিভাগের মহাপরিচালক, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রেস-২ শাখার উপসচিব এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবালয় নিরাপত্তা শাখার উপসচিবকে কমিটির সদস্য করা হয়েছে।
সাংবাদিক প্রতিনিধি হিসেবে কমিটিতে আছেন দৈনিক দিনকালের সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইংয়ের অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, ডিইউজে-বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, জেডনিউজডটনিউজের নির্বাহী সম্পাদক ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, একাত্তর টেলিভিশনের সিইও ও হেড অব নিউজ মো. শফিকুল ইসলাম এবং নিউজ টোয়েন্টিফোর টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি উম্মে মারুফা।
অফিস আদেশে বলা হয়েছে, এই কমিটি প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড ইস্যুর ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। কার্ড সংক্রান্ত আপত্তি, অভিযোগ, শুনানি ও নিষ্পত্তির দায়িত্বও এই কমিটির ওপর থাকবে।
প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন নীতিমালায় প্রয়োজনীয় সংযোজন, সংশোধন ও পরিমার্জনের বিষয়ে এই কমিটি সুপারিশও করবে।
২০২৫ সালে নতুন প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন নীতিমালা করা হয়। ওই নীতিমালায় স্থায়ী ও অস্থায়ী কার্ডের বদলে একই ধরনের প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়।
নীতিমালা অনুযায়ী, কার্ডের মেয়াদ হবে তিন বছর। একটি সংবাদ প্রতিষ্ঠান তার সাংবাদিকদের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশের জন্য অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড চাইতে পারবে, তবে কোনো প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সীমা ১৫ জন।
নীতিমালায় জেলা পর্যায়ের সাংবাদিকদের জেলা থেকেই কার্ড দেওয়ার ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়।
এর আগে গত ২০ মে প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন আপিল কমিটি পুনর্গঠন করে সরকার।
জুলাই গণআন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্বে এসে কয়েক দফায় বিভিন্ন সাংবাদিক ও কর্মকর্তার প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল করে দেয়।
আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি ‘অতিমাত্রায় আনুগত্য’ এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ‘বিতর্কিত ভূমিকার’ অভিযোগে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে নেতৃস্থানীয় পদে সাংবাদিকদের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল করে সরকার।
বাতিলের পর নতুন নীতিমালা করে সেই অনুযায়ী কার্ড দেওয়ার ঘোষণা আসে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের তরফে।
দেশবার্তা/একে