ই-পেপার |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  শুক্রবার | ১৭ জুলাই ২০২৬ | ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ 

সর্বশেষ আপডেট: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ০:৩৮
চলমান বার্তা:
সংবিধান বদলের শর্তে আর্মেনিয়ার সঙ্গে শান্তি চায় আজারবাইজান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫৮  (ভিজিটর : )

দীর্ঘ কয়েক দশকের সংঘাতের পর আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে এখন ‘সত্যিকারের শান্তি’ বিরাজ করছে বলে দাবি করেছে আজারবাইজান। দুই দেশের মধ্যে ধীরে ধীরে বাণিজ্য ও যোগাযোগও আবার শুরু হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত শান্তি চুক্তিতে সই করার আগে আর্মেনিয়াকে সংবিধান পরিবর্তন করতে হবে বলে আবারও জানিয়েছে আজারবাইজান।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন আজারবাইজানের প্রেসিডেন্টের সহকারী এবং পররাষ্ট্রনীতি বিভাগের প্রধান হিকমেত হাজিয়েভ। দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলের প্রতিবেশী এই দুই দেশের মধ্যে ১৯৮০-এর দশকের শেষ দিক থেকে একাধিকবার যুদ্ধ হয়েছে। এসব সংঘাতের মূল কারণ ছিল পাহাড়ি নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে বিরোধ।

গত বছরের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই দেশ একটি প্রাথমিক শান্তি সমঝোতায় পৌঁছায়। এরপর থেকে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিক শান্তি চুক্তি সই হয়নি। এর প্রধান কারণ হিসেবে আর্মেনিয়ার সংবিধানের একটি বিষয়কে উল্লেখ করছে আজারবাইজান।

বাকুর দাবি, আর্মেনিয়ার সংবিধানের ভূমিকায় সোভিয়েত আমলের একটি নথির উল্লেখ রয়েছে, যেখানে আর্মেনিয়া ও নাগোরনো-কারাবাখকে এক করার আহ্বান জানানো হয়েছিল। আজারবাইজানের মতে, এটি তাদের ভূখণ্ডের ওপর পরোক্ষ দাবি। প্রায় ৩০ বছর নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চলটি কার্যত জাতিগত আর্মেনীয়দের নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে ২০২৩ সালে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে অঞ্চলটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় আজারবাইজান। ওই অভিযানের পর সেখানে বসবাসকারী প্রায় এক লাখ মানুষ আর্মেনিয়ায় চলে যান।

বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হলে দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলে বাণিজ্য ও পরিবহন ব্যবস্থা নতুন করে চালু হবে। এতে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে যোগাযোগ আরো সহজ হবে। একই সঙ্গে রাশিয়া, তুরস্ক ও ইরানের আঞ্চলিক প্রভাবেও পরিবর্তন আসতে পারে। সম্প্রতি শুশা শহরে একটি আন্তর্জাতিক ফোরামের ফাঁকে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হিকমেত হাজিয়েভ বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক আগের চেয়ে অনেক উন্নত হয়েছে। তার ভাষায়, ‘আমরা এখন সত্যিকারের শান্তির পরিবেশে বাস করছি। আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে শান্তি এখন শুধু কোনো কাগজে লেখা প্রতিশ্রুতি নয়, এটি বাস্তব।’ তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ছে এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যও ধীরে ধীরে বাড়ছে।

এমনকি আর্মেনিয়ায় আজারবাইজানের তেলজাত পণ্যের সরবরাহও বেড়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আর্মেনিয়ার সংবিধান পরিবর্তনের বিষয়ে আজারবাইজানের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। হাজিয়েভ বলেন, সংবিধান কীভাবে পরিবর্তন করবে, সেটি সম্পূর্ণ আর্মেনিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে আজারবাইজান চায়, তাদের দেশের বিরুদ্ধে ভূখণ্ডগত দাবি হিসেবে দেখা যায়—এমন সব ধারা আনুষ্ঠানিকভাবে সংবিধান থেকে বাদ দেওয়া হোক। তিনি বলেন, নতুন সংবিধান গ্রহণের মাধ্যমে হোক বা অন্য কোনো আইনি উপায়ে—এই বিষয়টির সমাধান হলেই চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি সইয়ের আর কোনো বাধা থাকবে না বলে তারা মনে করেন।

আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান ইতোমধ্যে জানিয়েছেন, তিনি সংবিধান পরিবর্তনের জন্য গণভোট করতে চান। তিনি বলেছেন, নতুন সংবিধানের খসড়া চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রকাশ করা হবে। তবে এই গণভোট আয়োজন করতে সংসদে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা তার দল সিভিল কনট্রাক্টের নেই। এছাড়া বিরোধী দলগুলো এ উদ্যোগে সমর্থন দেবে কি না, সেটিও এখনো নিশ্চিত নয়। হাজিয়েভ বলেন, শুধু সংবিধানের খসড়া প্রকাশ করলেই হবে না। বাস্তবে সংবিধান পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শেষ হওয়াই শান্তি চুক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

হিকমেত হাজিয়েভ জানান, পরিকল্পিত একটি আন্তর্জাতিক পরিবহন করিডর নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে তারা ইতিবাচক বার্তা পেয়েছেন। তার আশা, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন থাকা এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ আগামী শরৎকালেই শুরু হতে পারে। 'আন্তর্জাতিক শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য ট্রাম্প রুট' নামে পরিচিত এই প্রকল্পের সংক্ষিপ্ত নাম ট্রিপ। প্রস্তাবিত ৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই করিডরটি আর্মেনিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর মাধ্যমে আজারবাইজান সরাসরি তার বিচ্ছিন্ন অঞ্চল নাখচিভান এবং মিত্র দেশ তুরস্কের সঙ্গে স্থলপথে যুক্ত হবে। বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নতুন বাণিজ্য ও জ্বালানি রুট গড়ে তুলতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র। এই করিডর চালু হলে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে পণ্য পরিবহন আরো সহজ ও দ্রুত হবে। হাজিয়েভ বলেন, আজারবাইজান চায় যত দ্রুত সম্ভব এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হোক। তিনি আরো জানান, আজারবাইজানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জাঙ্গিলান পর্যন্ত প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের কাজ ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ প্রায় শেষ হয়ে যাবে। এরপর সেটিকে আর্মেনিয়া ও তুরস্কের পরিকল্পিত সড়ক ও রেলপথের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।

দেশবার্তা/এমআর
মতামত লিখুন:
আরও পড়ুন 
Loading...
Loading...
দেশবার্তা    বিজ্ঞাপন    সার্কুলেশন    শর্তাবলি ও নীতিমালা    গোপনীয়তা নীতি    যোগাযোগ   
স্বত্ব © ২০২৬ দেশ বার্তা | সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।