ই-পেপার |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  শুক্রবার | ১৭ জুলাই ২০২৬ | ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ 

সর্বশেষ আপডেট: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ০:৩৮
চলমান বার্তা:
ফিরতি রথ ২৪ জুলাই
বর্ণাঢ্য আয়োজনে জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা
অনিক কর্মকার
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ২০:৪৩  (ভিজিটর : )
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

নানা আনুষ্ঠানিকতা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে রাজধানী ঢাকায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা শুরু হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর স্বামীবাগ ইসকন (ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনসাসনেস) আশ্রম থেকে বর্ণাঢ্য রথটানের মধ্য দিয়ে এই উৎসবের সূচনা হয়।

এর আগে বিশ্ব শান্তি ও মঙ্গল কামনায় বিশেষ ‘অগ্নিহোত্র যজ্ঞ’, হরিনাম সংকীর্তন ও ধর্মীয় আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। রথযাত্রা উপলক্ষে স্বামীবাগ থেকে শুরু করে ঢাকেশ্বরী মন্দির পর্যন্ত পুরো সড়কজুড়ে ভক্তদের ঢল নামে। রথে অধিষ্ঠিত শ্রী জগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রা দেবীর উদ্দেশ্যে ফুল ও ফল অর্পণ করেন পুণ্যার্থীরা। রথ থেকে ভক্তদের মাঝে হরিনাম সংকীর্তনের পাশাপাশি বিভিন্ন ফলমূল ও প্রসাদ বিতরণ করা হয়।

স্বামীবাগ আশ্রম থেকে শুরু হয়ে শ্রীজগন্নাথ দেবের রথটি জয়কালী মন্দির, শাপলা চত্বর, দৈনিক বাংলা মোড়, পল্টন মোড়, সচিবালয় মেট্রো স্টেশন, জাতীয় প্রেস ক্লাব, হাই কোর্ট মাজার, দোয়েল চত্বর, শহীদ মিনার ও পলাশীর মোড় হয়ে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে গিয়ে পৌঁছায়। 

সনাতন ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, আগামী আট দিন জগন্নাথ দেব ঢাকেশ্বরী মন্দিরে (মাসির বাড়ি) অবস্থান করবেন। আগামী ২৪ জুলাই (শুক্রবার) একই পথ ধরে উল্টো রথযাত্রার মাধ্যমে জগন্নাথ দেব পুনরায় স্বামীবাগ আশ্রমে ফিরে আসবেন।

রথযাত্রা থেকে উল্টো রথযাত্রার মধ্যবর্তী সময়ে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত স্বামীবাগ আশ্রমে বিশেষ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। 

এর মধ্যে রয়েছে- মহাপ্রসাদ বিতরণ, জগন্নাথ লীলামৃত ও শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত পাঠ, কীর্তন মেলা, পদাবলী কীর্তন, আরতি, ভগবত কথা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শ্রীমদ্ভাগবত গীতা পাঠ এবং ধর্মীয় চলচ্চিত্র ও নাটক প্রদর্শন।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, জগন্নাথ দেবই জগতের নাথ বা অধীশ্বর। শাস্ত্রে বলা হয়েছে, ‘রথোপরি বামন দৃষ্ট পুনর্জন্ম ন বিদ্যতে’—অর্থাৎ রথের ওপর বামন বা জগন্নাথকে দর্শন করলে জীবকে আর পুনর্জন্মের চক্রে আবর্তিত হতে হয় না, সে সরাসরি মুক্তিলাভ করে।

এই উৎসবের উৎপত্তির পেছনে বিশ্বাস রয়েছে যে, জগন্নাথ ও বলরামের কাছে তাদের বোন সুভদ্রা একবার নগর ভ্রমণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। বোনের ইচ্ছা পূরণে দুই ভাই একটি বিশাল রথ প্রস্তুত করে বোনকে নিয়ে ভ্রমণে বের হন। যাত্রাপথে তারা গুন্ডিচায় মাসির বাড়ি গিয়ে সাত দিন অবস্থান করেন এবং নবম দিনে পুনরায় পুরীতে ফিরে আসেন। সেই থেকে প্রতি বছর এই উৎসব উদযাপিত হয়ে আসছে। ঐতিহ্যগতভাবে রথে বলরাম সামনে, সুভদ্রা মাঝখানে এবং জগন্নাথ দেব পেছনে অবস্থান করেন।

উৎসবের প্রস্তুতি ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইসকন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক চারু চন্দ্র দাস ব্রহ্মচারী (নিতাই স্বামী) জানান, রথযাত্রা থেকে শুরু করে উল্টো রথযাত্রা পর্যন্ত প্রতিদিনের জন্য বিশেষ অনুষ্ঠানসূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। দীর্ঘ শোভাযাত্রার পথজুড়ে ভক্তদের তৃষ্ণা মেটাতে পর্যাপ্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

নিরাপত্তা প্রসঙ্গে ইসকন বাংলাদেশের সভাপতি সত্যরঞ্জন বাড়ৈ বলেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব সম্পন্ন করতে আমরা সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ইসকনের নিজস্ব পোশাকধারী পাঁচ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক পুরো পথজুড়ে দায়িত্ব পালন করছেন।

দেশবার্তা/একে
মতামত লিখুন:
আরও পড়ুন 
Loading...
Loading...
দেশবার্তা    বিজ্ঞাপন    সার্কুলেশন    শর্তাবলি ও নীতিমালা    গোপনীয়তা নীতি    যোগাযোগ   
স্বত্ব © ২০২৬ দেশ বার্তা | সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।