ই-পেপার |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  শুক্রবার | ১৭ জুলাই ২০২৬ | ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ 

সর্বশেষ আপডেট: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ০:৩৮
চলমান বার্তা:
জামায়াত আমির
জীবন দেব, তবু ২৪ এর অর্জন হারিয়ে যেতে দেব না
দেশবার্তা প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১৪:৪১ আপডেট: ১৬.০৭.২০২৬ ১৬:৪৮  (ভিজিটর : )

‘আল্লাহর কসম, জীবন দেব কিন্তু ২৪ হারিয়ে যেতে দেব না’- এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। 

তিনি বলেন, আমরা লজ্জিত, কারণ প্রতিবার সাধারণ মানুষ, ছাত্র, তরুণ, যুবক ও শ্রমিকেরা জীবন দিয়ে অর্জন এনে দেওয়ার পর কিছু লুটেরা সেই অর্জন ছিনিয়ে নেয়। আজও ২০২৪-এর অর্জন হারিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে আইডিবির মিলনায়তনে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদসহ সব শহীদের স্মরণে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আমীর মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল।

জামায়াত আমির বলেন, আজ যে সংসদ ও সরকার গঠিত হয়েছে, সবাই স্বীকার করেন এটি ২০২৪-এর ফসল। অথচ কেউ কেউ বলতে চান, ২০২৪ তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়, আগের অংশটাই গুরুত্বপূর্ণ। 

জামায়াত কখনো আগের ত্যাগের অংশকে অস্বীকার করে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই সময়েই তো আমরা আমাদের ১১ জন শীর্ষ নেতাকে হারিয়েছি। শত শত সহকর্মীকে হারিয়েছি। অসংখ্য মানুষ কারাগারে গেছেন, চাকরি হারিয়েছেন, বাড়িঘরে থাকতে পারেননি। কিন্তু এটাও সত্য, ২০২৪ না হলে আজ আমি এখানে বক্তৃতা দিতে পারতাম না, বিরোধীদলীয় নেতা হতে পারতাম না, সংসদ সদস্য হতে পারতাম না। একইভাবে তারেক রহমানও প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না।

সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কিছু মন্ত্রী দায়িত্বজ্ঞানহীন কথা বলেন। সংসদে ও টকশোতে দেওয়া এসব বক্তব্য নিয়ে সংসদে কথা বললে সেগুলোকে সংসদের বাইরের বিষয় বলে এড়িয়ে যাওয়া হয়। অথচ আঘাত করতে গেলে আধা শতাব্দী আগের ঘটনাও টেনে আনা হয়।

একটি প্রবাদ উল্লেখ করে তিনি বলেন, চিংড়ি মাছ লাফ দিলে পেছনের দিকে যায়। সামনে রাস্তা খুঁজে পায় না। জাতি যদি সবসময় পেছনের দিকেই তাকিয়ে থাকে, তাহলে সামনে এগোবে কীভাবে? আমরা সবসময় বলেছি, আসুন সামনে তাকাই। ২০২৪-এর যে অঙ্গীকার, তা বাস্তবায়ন করি।

শফিকুর রহমান বলেন, জুলাইয়ের তরুণরা বৈষম্যহীন সমাজ, অধিকারের নিশ্চয়তা, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত দেশ এবং আদালতে ন্যায়বিচার চেয়েছিল। তারা ভিক্ষা চায়নি, যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ চেয়েছিল। কিন্তু আজ বড় বড় কথা শোনা গেলেও কাজের বেলায় তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল দাবি তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, সবচেয়ে বড় দাবি ছিল ফ্যাসিবাদ যেন আর বাংলাদেশে ফিরে না আসে। এজন্য রাষ্ট্র সংস্কার ও নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন ছিল। 

গণভোটের জটিলতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চারটি প্রশ্ন তো আগেই প্রচার ও ব্যাখ্যা করা হয়েছিল। তাহলে কি আপনারা বলতে চান, বুদ্ধি শুধু আপনাদের আছে, দেশের ১৮ কোটি মানুষের নেই? এটা জাতিকে অপমান করার শামিল।

নির্বাচনের আগে গণভোটের পক্ষে থাকলেও এখন ভিন্ন সুর চড়ানো হচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, জনগণের প্রায় ৭০ শতাংশ হ্যাঁ বলেছেন। এখন বলা হচ্ছে, ৫১ শতাংশ ভোট পেয়ে সরকার গঠন করা হয়েছে, তাই ৭০ শতাংশ গণরায় মানা হবে না। আমি জানতে চাই, ৫১ বড়, নাকি ৭০ বড়? ভোট কীভাবে পেয়েছেন, সেই বিতর্ক ইতিহাসে থেকেই যাবে। সাড়ে তিন ঘণ্টা ব্ল্যাকআউট করে কী করা হয়েছে, জনগণ তা জানে।

সংবিধান সংশোধন কমিটি নিয়ে প্রশ্ন তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংবিধান সংশোধন কমিটি নামে কোনো কমিটি সংবিধানের কোথাও আছে কি? যদি না থাকে, তাহলে এটি কেন? এটি জুলাই ও গণভোটকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা। 

জনগণের রায়কে অপমান করার প্রতিবাদে তারা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, জামায়াত জনগণের রায়ের পক্ষে লড়াই চালিয়ে যাবে।

প্রতিবেশী দেশ ভারতের প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অনেকেই প্রতিবেশী দেশ নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। আমরাই একমাত্র দল, যাদের তারা পছন্দ করে না। তারা বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলকে ভারতের মাটিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছে, শুধু জামায়াতে ইসলামীর জন্য লাল কার্ড। কিন্তু আমরা সেই লাল কার্ডের পরোয়া করি না। ভারতের মাটিতে আশ্রয় নেওয়ার চিন্তাও আমরা করি না। এই দেশই আমাদের দেশ। আমাদের আশ্রয়ের জায়গা বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের অন্তর।

দেশবার্তা/একে
মতামত লিখুন:
আরও পড়ুন 
Loading...
Loading...
দেশবার্তা    বিজ্ঞাপন    সার্কুলেশন    শর্তাবলি ও নীতিমালা    গোপনীয়তা নীতি    যোগাযোগ   
স্বত্ব © ২০২৬ দেশ বার্তা | সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।