২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পেছনে বিএনপির দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলনই মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
তিনি বলেন, একটি গণঅভ্যুত্থান হঠাৎ করে তৈরি হয় না; এর পেছনে দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক সংগ্রাম ও আন্দোলনের ভিত্তি থাকে। সেই ভিত্তি বিএনপিই তৈরি করেছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে ‘ন্যায়ভিত্তিক বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে বিভাজন নয়, ঐক্য’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘আমরা বাংলাদেশী’ নামের একটি সংগঠন এ সভার আয়োজন করে।
এ্যানি বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের সময় আজকের বিরোধী দল কোথায় ছিল? গত ১৭ বছর তারা কী করেছে- এ প্রশ্নের উত্তর জনগণ জানতে চায়। আমরা যুগপৎ আন্দোলন করেছি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট গড়ে রাজপথে থেকেছি। অথচ ৫ আগস্টের পর কেউ কেউ দাবি করছে, তারাই এককভাবে আন্দোলন করেছে। ইতিহাসকে বিকৃত করার এই চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।’
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সবাই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়নি এবং সবার বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগও নেই। তবে বিরোধী দল সংসদে ‘ভালো আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নেওয়ার’ যে বক্তব্য দিয়েছে, তা রাজনৈতিক বিভেদের সূচনা করতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিরোধী দলের সমালোচনা করে এ্যানি বলেন, ‘১৯৮৬ সালে এরশাদবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আন্দোলনে তাদের সক্রিয় ভূমিকা ছিল না। তারা ভেবেছিল ক্ষমতায় চলে আসবে, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। কিছু আসনে বিএনপির একাধিক প্রার্থী ও প্রবাসী ভোটে দুর্বলতার কারণে তারা সুবিধা পেয়েছে। ভবিষ্যতে এসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।’
সরকারের কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র পাঁচ মাস হয়েছে। এত অল্প সময়ে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব হয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রী দেশকে সংকটমুক্ত করতে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। সবার সহযোগিতা পেলে দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব হবে।
এ্যানি আরও বলেন, গত ১৭ বছরের দুর্নীতি, চুরি ও লুটপাটের কারণে দেশ নানা সংকটে পড়েছে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও কমে আসা জমির বাস্তবতায় পরিকল্পিত উন্নয়ন প্রয়োজন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উন্নয়ন ভাবনার ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান বলেন, বিএনপি ঐক্যের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে, বিভাজনের নয়। তিনি বিরোধী দলের বিভিন্ন বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, জনগণ এখন রাজনৈতিক বাস্তবতা বুঝতে সক্ষম এবং বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ নেই।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ‘আমরা বাংলাদেশী’র সমন্বয়ক সৈয়দ এহসানুল হুদা। আরও বক্তব্য দেন লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান শামসুদ্দিন পারভেজ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মহিউদ্দিন ইকরাম, বিএনপি নেতা মোমিনুল আমিন এবং ইউনাইটেড লেবার পার্টির আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।
দেশবার্তা/একে