ই-পেপার |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  বুধবার | ২৯ জুলাই ২০২৬ | ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ 

সর্বশেষ আপডেট: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ২৩:২৩
চলমান বার্তা:
এবার দেশের সব দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যে মিললো মাইক্রোপ্লাস্টিক
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে শিশুরা
দেশবার্তা প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১৬:৩২  (ভিজিটর : )
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

দেশের বাজারে প্রচলিত সব ধরনের দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যে বিষাক্ত ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক’ বা অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। পরীক্ষা করা ৪১টি নমুনার প্রতিটিতেই মিলছে এই ক্ষতিকর উপাদান। 

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) পুষ্টি ও খাদ্যপ্রযুক্তি বিভাগের এক গবেষণায় উঠে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর ও উদ্বেগের তথ্য।

‘মাইক্রোপ্লাস্টিকস কনটামিনেশন অব মিল্ক অ্যান্ড মিল্ক প্রোডাক্টস ইন বাংলাদেশ: ক্যারেক্টারাইজেশন, ডায়েটারি এক্সপোজার অ্যান্ড রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট’ শীর্ষক এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন যবিপ্রবির শিক্ষক সানাউল্লাহ মাজুমদারের নেতৃত্বাধীন একদল গবেষক। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ২০২৩-২৪ অর্থবছরের অনুদানে এটি পরিচালিত হয়। 

গবেষকদের দাবি, দেশে দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ এবং এর স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে এটিই প্রথম বিস্তৃত কোনো বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা।

গবেষণার জন্য ঢাকা, যশোর, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর, রাজশাহী, রংপুর ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের খোলা বাজার ও সুপারশপ থেকে মোট ৪১টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে ছিল ১৭টি কাঁচা দুধের নমুনা, ১২টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের তরল ও গুঁড়ো দুধ এবং ১২টি অন্যান্য দুগ্ধজাত পণ্য। ল্যাবরেটরিতে মাইক্রোস্কোপ এবং এফটিআইআর (FTIR) প্রযুক্তির সাহায্যে পরীক্ষায় শতভাগ নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের অস্তিত্ব ধরা পড়ে।

গবেষণায় দেখা যায়, খোলা বা কাঁচা দুধের তুলনায় প্যাকেটজাত বা প্রক্রিয়াজাত ব্র্যান্ডের দুধে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি অনেক বেশি। ব্র্যান্ডের দুধ: প্রতি ১০০ মিলিলিটারে গড়ে ১৫৬.৬টি প্লাস্টিক কণা। কাঁচা দুধ: প্রতি ১০০ মিলিলিটারে গড়ে ৯৩.৩৯টি প্লাস্টিক কণা। দুগ্ধজাত পণ্য: প্রতি ১০০ মিলিলিটারে গড়ে ৭০.৮০টি প্লাস্টিক কণা।

গবেষকদের ধারণা, খামার থেকে দুধ সংগ্রহ, পরিবহন, কারখানায় প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেটজাতকরণ এবং যন্ত্রপাতির পাইপের সংস্পর্শে এসেই মূলত এসব প্লাস্টিক কণা দুধে মিশে যাচ্ছে।

দুধে মেলা মাইক্রোপ্লাস্টিকের বেশির ভাগই ছিল স্বচ্ছ এবং আঁশ আকৃতির (সাইজে ২৫০ মাইক্রোমিটারের কম)। কাঁচা দুধে ৭৭.৪৮ শতাংশ এবং ব্র্যান্ডের দুধে ৮২.৮৩ শতাংশ কণাই আঁশজাতীয়। এসব নমুনায় পিটিএফই (টেফলন), পিইটি, নাইলন-৬, পলিইথিলিন ও পলিস্টাইরিনের মতো মারাত্মক ক্ষতিকর পলিমার শনাক্ত হয়েছে।

এই দূষণের কারণে বিশেষ করে ৪ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুরা সবচেয়ে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন গবেষকরা। প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুদের শরীরের ওজন কম হলেও প্রতিদিন দুধ খাওয়ার প্রবণতা বেশি। ফলে তাদের শরীরে অপেক্ষাকৃত বেশি মাত্রায় এই বিষাক্ত প্লাস্টিক কণা প্রবেশ করছে।

সংকট সমাধানে দুগ্ধ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপে প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করা, উন্নত ফিল্টারেশন পদ্ধতির প্রয়োগ এবং নিয়মিত দুগ্ধপণ্যের গুণগত মান পরীক্ষার জোর সুপারিশ জানিয়েছেন গবেষকরা।

দেশবার্তা/একে
মতামত লিখুন:
আরও পড়ুন 
Loading...
Loading...
দেশবার্তা    বিজ্ঞাপন    সার্কুলেশন    শর্তাবলি ও নীতিমালা    গোপনীয়তা নীতি    যোগাযোগ   
স্বত্ব © ২০২৬ দেশ বার্তা | সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।