বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারতে স্বাগত জানানোর জন্য দেশটি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারপ্রধানের দিল্লি সফর শিগগিরই বাস্তবায়িত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
বুধবার (২৯ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ভারতীয় হাইকমিশনার।
প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফর নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘আমি মনে করি, এটি প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার। তবে আমাদের পক্ষ থেকে বলতে পারি, আমরা বাংলাদেশ সরকারপ্রধানকে ভারতে স্বাগত জানানোর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। আশা করছি খুব শিগগিরই এই সফরটি বাস্তবায়িত হবে।’
উল্লেখ্য, আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের নয়াদিল্লিতে ব্রিকসের ১৮তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্যরাষ্ট্র না হলেও সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
এর আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তাঁদের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের প্রথম সাক্ষাৎ।
বৈঠক শেষে সার্বিক আলোচনা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘আজকের মিটিংটা অত্যন্ত চমৎকার হয়েছে। আমি মনে করি, এই বৈঠকটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। খুব আন্তরিক পরিবেশে আলোচনাটি সম্পন্ন হয়েছে, কারণ আমাদের মূল লক্ষ্য ও বিষয়গুলো একেবারেই অভিন্ন।’
বাংলাদেশ ও ভারতের পারস্পরিক সুসংহত সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ঐতিহাসিকভাবে, সাংস্কৃতিকভাবে, এমনকি খেলাধুলার দিক থেকেও দুই দেশের সম্পর্ক অনেক গভীর। বৈঠকে এসব বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে।’
ভিসা সংক্রান্ত অগ্রগতির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এখান থেকে অত্যন্ত আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ মনে ফিরে যাচ্ছি। আপনারা জানেন যে আমরা ভিসা খুলে দিয়েছি, যাতে ভারত ও বাংলাদেশ উভয় দেশের মানুষই এর সুফল পেতে পারে।’
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে হাইকমিশনার বলেন, ‘আমাদের এই সম্পর্ক ঐতিহাসিক। আমরা শুধু সীমান্তই ভাগাভাগি করি না, আমাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং ভবিষ্যৎ স্বপ্নও এক। আজকের বৈঠকটি খুব ভালো হয়েছে। আমি এমন একটি সম্পর্কের দিকে তাকিয়ে আছি, যার মূল ভিত্তিই হলো উভয় দেশের মানুষের পারস্পরিক কল্যাণ। এটি কেবল শুরু, আমরা ভবিষ্যতে একে অপরের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করে যাব।’
দুই দেশের মধ্যে বহুল আলোচিত তিস্তা ও গঙ্গা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘আজকের সাক্ষাৎটি মূলত সৌজন্যমূলক ছিল। তবে পারস্পরিক বোঝাপড়া থাকলে এমন কোনো সমস্যা নেই, যা সমাধান করা সম্ভব নয়। দিনশেষে মূল বিষয়টি হলো সাধারণ মানুষের কল্যাণ। দুই দেশের গণতন্ত্র ও জনগণের জন্য যা ভালো, সেটাই করা হবে।’
হাইকমিশনার আরও জানান, পানি চুক্তির বিষয়ে ভারত ও বাংলাদেশ- উভয় পক্ষের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তারা নিজেদের মধ্যে সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে এবং প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে এসব ইস্যুতে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে বলে আশাবাদ জানান তিনি।
দেশবার্তা/একে