পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২৮ বছর পূর্তি উপলক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের উদ্যোগে সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের সদস্য দীপায়ন খীসার সঞ্চালনায় এবং যুগ্ম সমন্বয়কারী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক খায়রুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সংগঠনের যুগ্ম সমন্বয়কারী জাকির হোসেন, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, সংগঠনের সদস্য প্রণব কুমার বিশ্বাস, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি দীপক শীলসহ বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ও পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের যুগ্ম সমন্বয়কারী জাকির হোসেন।
তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম একটি আদিবাসী অধ্যুষিত বহু ভাষাভাষী অঞ্চল হলেও স্বাধীনতার পর সংবিধানে তাদের পরিচয় অস্বীকারের ঐতিহাসিক ভুলের কারণে জুম্ম জনগোষ্ঠী রাষ্ট্রগঠন প্রক্রিয়া ও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। দীর্ঘ সংঘাতের পর ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও ২৮ বছর পরও এর মৌলিক বিষয়গুলো বাস্তবায়িত হয়নি।
তিনি আরও বলেন, ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের সভা বারবার স্থগিত হওয়া, টাস্কফোর্সের কার্যক্রম স্থগিত থাকা এবং রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের শিক্ষক নিয়োগে সাম্প্রদায়িক বাধা—এসবই চুক্তি বাস্তবায়নের পথে বড় অন্তরায়। রাষ্ট্রীয় নীরবতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের ২৮ বছর পরও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হয়নি, বরং বাস্তবায়িত দাবি করা অংশগুলোর কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তিনি বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হলেও সংস্কার কমিশনগুলোতে আদিবাসীদের কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই—যা অত্যন্ত হতাশাজনক।
তিনি আরও বলেন, চুক্তির আগে যেমন সেনাবাহিনীর ভূমিকা ছিল—চুক্তির পরও তা অপরিবর্তিত রয়েছে। ওই অঞ্চলে কার্যত এক ধরনের সেনাশাসন বিদ্যমান বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনতে সেনাবাহিনীর গঠনমূলক ভূমিকা ও সরকারের আন্তরিকতা জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সভাপতি অধ্যাপক খায়রুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই পার্বত্য চট্টগ্রাম একটি বিশেষ শাসন কাঠামোর অধীন রয়েছে। বিভিন্ন সরকারের নীতিনির্ধারণ ও আলোচনার ধারাবাহিকতায় ১৯৯৭ সালের চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও এর মূল লক্ষ্য—পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ন্যায়বিচার, ভূমি সমস্যা সমাধান ও মানবাধিকার সুরক্ষা—আজও অধরা। বরং চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ভুলে গিয়ে বাঙালি পুনর্বাসনের বিষয়টিই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।
তিনি বলেন, চুক্তি বাস্তবায়নে দীর্ঘ বিলম্বের কারণে শুধু পাহাড়িরাই নয়, স্থানীয় বাঙালিরাও নানা বঞ্চনা ও অধিকার সংকটে ভুগছেন। এটি শুধু পার্বত্য অঞ্চলের সমস্যা নয়; বরং জাতীয় সমস্যা।
২৪ জুলাইয়ের গণআন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, হাজারো আদিবাসী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করলেও তাদের সমস্যা এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। জাতীয় স্বার্থেই ১৯৯৭ সালের চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি বলে তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন।
দেশবার্তা/একে