ই-পেপার |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  বুধবার | ২৯ জুলাই ২০২৬ | ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ 

সর্বশেষ আপডেট: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ২১:০৪
চলমান বার্তা:
দ্য আইরিশ টাইমসের প্রতিবেদনে আসক্তির ভয়াবহ চিত্র
‘ইয়াবা মানুষকে পশু বানিয়ে দেয়’, ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা জানালেন মেটালফ্রিক
দেশবার্তা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ২০:৫১ আপডেট: ২৮.০৭.২০২৬ ২১:১৪  (ভিজিটর : )
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

একসময় দিনের একটি বড় অংশ কাটত পোষা পাখির সঙ্গে। খাঁচা পরিষ্কার করা, পাখিকে আদর করা কিংবা কিছু সময়ের জন্য উড়িয়ে দেওয়া ছিল তাঁর নিত্যদিনের অভ্যাস। এখন সেসবই অতীত। ঢাকার একটি অগোছালো শোবার ঘরে শুয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে তিনি বললেন, এখন আর আমি এসব করতে পারি না। কে এসবের পরোয়া করে?

নিরাপত্তার কারণে নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে চান না। তাই এই প্রতিবেদনে তাঁর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে ‘মেটালফ্রিক’ ছদ্মনাম। বয়স চল্লিশের কোটায়। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ইয়াবার আসক্তিতে ভুগছেন। তাঁর ভাষায়, এই জিনিসটা আমার মন-মানসিকতা একেবারে শেষ করে দিয়েছে।

মেথামফেটামিন ও ক্যাফেইনের সংমিশ্রণে তৈরি ইয়াবা বাংলাদেশে বহু মানুষের জীবনে ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে। থাই ভাষায় ‘ইয়াবা’ শব্দের অর্থ ‘পাগল করা ওষুধ’। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান, কঠোর আইন এবং নিয়মিত মাদক উদ্ধার সত্ত্বেও বিশেষজ্ঞদের ধারণা, দেশে ইয়াবায় আসক্ত মানুষের সংখ্যা কমার পরিবর্তে বাড়ছেই।

টানা তিন দিন জেগে থাকার অভিজ্ঞতা

মেটালফ্রিক জানান, ইয়াবার একটি বড়ির প্রভাব সাধারণত চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা স্থায়ী হয়। কিন্তু নিয়মিত সেবনের ফলে পরিস্থিতি ভিন্ন হয়ে যায়। তাঁর দাবি, কখনো কখনো তিনি টানা তিন দিন পর্যন্ত না ঘুমিয়ে কাটিয়ে দেন। এরপর শরীর চরম ক্লান্ত হয়ে পড়লে একটানা ১২ ঘণ্টা কিংবা তারও বেশি সময় ঘুমিয়ে থাকেন।

তাঁর ভাষায়, ইয়াবা শুধু শরীরের ওপর নয়, মানুষের চিন্তাভাবনা, আবেগ ও আচরণের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলে।

দেশে মাদকাসক্তির বিস্তার

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন, দেশের প্রায় সাড়ে ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে প্রায় ৫ শতাংশ কোনো না কোনো মাদকে আসক্ত। তাঁর মতে, নতুন সিনথেটিক ও আধা-সিনথেটিক মাদকের বিস্তার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

এদিকে চলতি মাসে জাতীয় সংসদে মাদক-সংক্রান্ত কিছু অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে একটি বিল অনুমোদন করা হয়েছে।

বাংলাদেশে ইয়াবাকে ‘ক-শ্রেণির’ নিষিদ্ধ মাদক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে আইন কঠোর হওয়ার পরও এর বিস্তার পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব হয়নি।

২০১৮ সালের অভিযান ও বিতর্ক

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে ২০১৮ সালে দেশজুড়ে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান শুরু হয়। ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তের ‘মাদকবিরোধী যুদ্ধ’ এর সঙ্গে সেই অভিযানের তুলনা টানা হয়েছিল বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহলে। কয়েক মাসের মধ্যেই ওই অভিযানে ২০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়।

এসব ঘটনার পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার উদ্বেগ জানিয়ে বিবৃতি দেয়। 

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানায়, ২০১৮ সালে মাদকবিরোধী অভিযানের প্রেক্ষাপটে ৪৬৬ জন নিহত হন।

সংস্থাটি বলেছে, মাদকবিরোধী অভিযান দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে এমন এক আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছিল, যেখানে মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকার সামান্য সন্দেহেও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার ভয় মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। ওই সময় কয়েক হাজার মানুষকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল।

তবে স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, কঠোর অভিযান সত্ত্বেও ইয়াবার ব্যবহার কমেনি; বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর বিস্তার আরও বেড়েছে।

সমাধানে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার ওপর জোর

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের রেজিস্ট্রার ডা. মো. আরিফুজ্জামান মনে করেন, শুধু আইন প্রয়োগ করে মাদক সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, আমরা যদি মাদকের ব্যবহার কমাতে চাই, তাহলে আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবার উন্নতি করতে হবে।

ঢাকার নিরাময় পুনর্বাসন কেন্দ্রেও দায়িত্ব পালন করেন এই চিকিৎসক। কেন্দ্রটির অভ্যর্থনা কক্ষের দেয়ালে বড় অক্ষরে লেখা রয়েছে- ‘যেখানে নিরাময় শুরু, সেখান থেকেই জীবন।’

চিকিৎসার চেয়ে রোগী অনেক বেশি

ডা. মো. আরিফুজ্জামান বলেন, দেশে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সবচেয়ে বড় সংকট জনবলের ঘাটতি। তাঁর তথ্য অনুযায়ী, সারা বাংলাদেশে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ রয়েছেন মাত্র প্রায় ৩৫০ জন। ফলে সরকারি হাসপাতালগুলোতে একজন চিকিৎসককে খুব অল্প সময়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক রোগী দেখতে হয়।

তিনি বলেন, ‘জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে একজন চিকিৎসককে এক ঘণ্টায় প্রায় ২০ জন রোগী পর্যন্ত দেখতে হতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমাদের সামনে এর বিকল্প নেই।’

শুধু মনোরোগ বিশেষজ্ঞই নন, দক্ষ ক্লিনিক্যাল মনোবিজ্ঞানীর সংখ্যাও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। এ কারণে তিনি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, প্রাথমিক পর্যায়েই মানুষ যদি মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পায়, তাহলে অনেক ক্ষেত্রেই মাদকাসক্তির ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

চিকিৎসার বাইরে রয়ে যাচ্ছেন অধিকাংশ মানুষ

২০১৮-১৯ সালে পরিচালিত বাংলাদেশের সর্বশেষ জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য জরিপে দেখা যায়, যাঁদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রয়োজন, তাঁদের প্রায় ৯০ শতাংশই কোনো ধরনের চিকিৎসা নেন না।

ডা. আরিফুজ্জামানের মতে, এর অন্যতম কারণ সামাজিক সংকোচ ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি।

তিনি বলেন, ‘সারা বিশ্বের মতো আমাদের দেশেও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নানা ধরনের নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। তবে গত কয়েক বছরে সচেতনতা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।’

শুধু ইয়াবা নয়, বাড়ছে অন্য মাদকের ব্যবহারও

ডা. আরিফুজ্জামানের ভাষ্য, বর্তমানে ইয়াবায় আসক্তি খুবই সাধারণ একটি সমস্যা হয়ে উঠেছে। তবে অনেক ব্যবহারকারী কেবল ইয়াবাতেই সীমাবদ্ধ থাকেন না; তাঁরা একাধিক মাদকও গ্রহণ করেন। এর মধ্যে রয়েছে বুপ্রেনোরফিন ইনজেকশন, হেরোইন এবং ওমোরফোন বড়ির মতো মাদক।

তাঁর পর্যবেক্ষণ, প্রায় সব ধরনের মাদকের ব্যবহারই কিছু না কিছু হারে বাড়ছে। তবে ইয়াবার বিস্তার অন্যগুলোর তুলনায় অনেক বেশি উদ্বেগজনক।

তিনি আরও বলেন, কিছু মানুষ দীর্ঘদিন মাদক গ্রহণের পরও দৈনন্দিন কাজ চালিয়ে যেতে পারেন। আবার কারও কারও ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতার ভিন্নতার কারণে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব অনেক দ্রুত ও তীব্রভাবে দেখা দেয়।

সহজলভ্য হলেই বাড়ে ব্যবহার

ডা. আরিফুজ্জামান বলেন, যে মাদক সহজে পাওয়া যায়, সাধারণত সেটির ব্যবহারই দ্রুত বাড়ে।

জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (ইউএনওডিসি) জানিয়েছে, নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে এশিয়ার কয়েকটি দেশে ইয়াবা প্রথমে ট্রাকচালকদের মতো নির্দিষ্ট কিছু পেশার মানুষের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। পরে এটি তরুণদের সংস্কৃতির অংশে পরিণত হয়।

ইউএনওডিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালে বাংলাদেশে ১২ লাখ ইয়াবা বড়ি জব্দ করা হয়েছিল। এরপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর চোরাচালান ও ব্যবহার আরও বিস্তৃত হয়েছে।

‘গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল’ থেকে বাংলাদেশ

থাইল্যান্ড, মিয়ানমার ও লাওসের সীমান্তবর্তী অঞ্চল 'গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল' নামে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরেই এটি বিশ্বের অন্যতম বড় সিনথেটিক মাদক উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

ইউএনওডিসির তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় রেকর্ড ২৩৬ টন মেথামফেটামিন জব্দ করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৪ শতাংশ বেশি। তবে সংস্থাটির ধারণা, জব্দ হওয়া চালানের বাইরেও বিপুল পরিমাণ মাদক বাজারে পৌঁছে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বাংলাদেশে প্রবেশ করা ইয়াবার প্রধান উৎস মিয়ানমার।

আড্ডা দিতে গিয়ে শুরু, তারপর আসক্তি

মেটালফ্রিকের ভাষ্য, ইয়াবায় আসক্ত মানুষের কষ্টের গল্প অনেকটাই একরকম। তাঁর পর্যবেক্ষণ, অনেকের মাদকজীবনের শুরু হয় সিগারেট দিয়ে। এরপর গাঁজা, তারপর কফ সিরাপ- একপর্যায়ে তারা ইয়াবায় জড়িয়ে পড়ে।

তাঁর নিজের ক্ষেত্রেও শুরুটা হয়েছিল কৌতূহল থেকে। তরুণ বয়সে গাঁজার মতো মাদকের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন। পরে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা ও আনন্দের উদ্দেশ্যে প্রথমবার ইয়াবা সেবন করেন। কিন্তু সেই অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনের গতিপথ বদলে দেয়।

বলেন, আমি ভেবেছিলাম বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে ভালো লাগবে। কিন্তু ইয়াবা আমার মনকে অস্বাভাবিকভাবে উত্তেজিত করে তোলে। এই জিনিসটা মানুষকে পশু বানিয়ে দেয়।

সস্তা ইয়াবার ভয়াবহতা

মেটালফ্রিকের দাবি, কয়েক বছর আগেও ইয়াবার দাম তুলনামূলক বেশি ছিল। এখন বাজারে সস্তা ও দামি- দুই ধরনের ইয়াবাই পাওয়া যায়।

তাঁর ভাষ্য, কম দামের ইয়াবা ব্যবহারকারীদের মুখ ও দাঁতের মারাত্মক ক্ষতি করে। আর দীর্ঘদিন সেবনকারীদের চোখের দৃষ্টিতেই পরিবর্তন ধরা পড়ে।

তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন এই মাদক সেবনে স্ট্রোক, খিঁচুনি এবং দাঁত পড়ে যাওয়ার মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।

ইয়াবা অন্য মাদককে সরিয়ে দিয়েছে

মেটালফ্রিকের পর্যবেক্ষণ, গত কয়েক বছরে আফিম ও হেরোইনের সরবরাহ কমে যাওয়ায় ইয়াবাই এখন সবচেয়ে সহজলভ্য মাদক হয়ে উঠেছে।

তাঁর দাবি, ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যেই ইয়াবার কেনাবেচা হয়। মোহাম্মদপুর এলাকায় অল্প বয়সী কয়েকজনকে ছোট ছোট প্যাকেটে ইয়াবা বিক্রি করতে দেখেছেন বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, অনেক রিকশাচালকও সেখান থেকে ইয়াবা কিনে নেন।

“তবে তার এই বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।”

অস্থির সময়, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গেছে বাংলাদেশ। ২০২৪ সালের গণ-আন্দোলনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের প্রাণহানির ঘটনা বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই আন্দোলনের পর শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। পরে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠন করে।

অন্যদিকে, বিশ্বব্যাংকের শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী বাংলাদেশ একটি নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর অন্যতম হিসেবেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূচকে বাংলাদেশের নাম উঠে এসেছে। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ অনেক তরুণের মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

ব্যক্তিগত জীবনের একের পর এক ধাক্কা

মেটালফ্রিক জানান, ব্যক্তিগত জীবনেও একাধিক ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি তাঁর বাবা মারা গেছেন। একসময় যাঁকে মানুষ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সম্মান করত, সাম্প্রতিক সময়ে তাঁকে নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছেন পরিচিতদের কেউ কেউ। বিষয়টি তাঁকে মানসিকভাবে নাড়া দিয়েছে বলে জানান তিনি।

এছাড়া তাঁর একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আগুনে পুড়ে যায়। তাঁর সন্দেহ, ঘটনাটি পরিকল্পিত হতে পারে। যদিও অন্যদের ধারণা, সেটি বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট বা অন্য কোনো দুর্ঘটনার ফলও হতে পারে। এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বর্তমানে দিনের বেশির ভাগ সময় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ইনস্টাগ্রামে কাটান। সেখানে গাঁজাসংক্রান্ত নানা ভিডিও দেখেন বলে জানান।

আলাপচারিতায় তিনি পশ্চিমা গণমাধ্যম, যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা, মুসলমানদের প্রতি বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়েও নিজের হতাশার কথা তুলে ধরেন।

মিথ্যা আত্মবিশ্বাস থেকে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব

মেটালফ্রিকের মতে, ইয়াবা ব্যবহারকারীদের মধ্যে এক ধরনের কৃত্রিম আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়। এতে অনেকেই অস্বাভাবিক বা ভিত্তিহীন নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্বে বিশ্বাস করতে শুরু করেন।

কথা বলতে বলতে তিনি কিম জং-উন, চীনের উইঘুর জনগোষ্ঠী, নি-ক্যাপ, ভেনেজুয়েলা, অং সান সু চি ও ভ্লাদিমির পুতিনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে নিজের ভাবনার কথা বলতে থাকেন। তাঁর কথোপকথনে বিষয় থেকে বিষয়ান্তরে চলে যাওয়ার প্রবণতাও লক্ষ করা যায়।

অর্থনীতি, অপরাধ ও মাদক—সবই জড়িত

মেটালফ্রিক মনে করেন, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সন্ত্রাসবাদ, অপরাধ এবং মাদকাসক্তি- সব কিছুর ওপরই প্রভাব ফেলে।

তাঁর ভাষায়, তুলনামূলক সচ্ছল মানুষের অনেক সময় এমন জীবনযাপন থাকে, যেখানে দীর্ঘ সময় মাদকে ডুবে থাকার সুযোগ তৈরি হয়।

তিনি বলেন, ‘আমি সুবিধাপ্রাপ্ত। আমার নিজের একটা ঘর আছে। চাইলে সেখানে শুয়ে থাকতে পারি। আগামীকাল কীভাবে খাব, পরিবারকে কীভাবে চালাব- এই চিন্তা আমাকে করতে হয় না।’

তবে ইয়াবার পরিণতি নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর ভাষায়, অনেককে দেখেছি দুই বছরও ঠিকমতো টিকতে পারে না। কারণ তারা ঘুমায় না। শেষে তিনি বলেন, এটা ধীরে ধীরে বিষপ্রয়োগের মতো।

দেশবার্তা/একে
মতামত লিখুন:
আরও পড়ুন 
Loading...
Loading...
দেশবার্তা    বিজ্ঞাপন    সার্কুলেশন    শর্তাবলি ও নীতিমালা    গোপনীয়তা নীতি    যোগাযোগ   
স্বত্ব © ২০২৬ দেশ বার্তা | সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।