ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড–এর ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ও এন্টি মানি লন্ডারিং (এএমএল) ডিভিশনের যৌথ উদ্যোগে ‘প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং উইথ স্পেশাল এমফাসিস অন ট্রেড-বেইজড মানি লন্ডারিং (টিবিএমএল) অ্যান্ড ক্রেডিট-ব্যাকড মানি লন্ডারিং (সিবিএমএল)’ শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় ব্যাংকের বিভিন্ন বিভাগ ও শাখা থেকে কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালার উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আদিল চৌধুরী। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রণীত নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, নিয়মিত ও সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা বাড়ায় এবং ব্যাংকের সুশাসন কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। একটি জবাবদিহিমূলক ও নৈতিক ব্যাংকিং সংস্কৃতি গড়ে তুলতে ধারাবাহিক প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা সৈয়দ জুবায়ের আহমদ। তাঁর বক্তব্যে তিনি মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে সমন্বিত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, কার্যকর তদারকি এবং শক্তিশালী কমপ্লায়েন্স সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর বিস্তারিত আলোকপাত করেন।
তিনি বলেন, টিবিএমএল ও সিবিএমএল-এর মতো জটিল ঝুঁকি মোকাবিলায় কর্মকর্তাদের বিশ্লেষণী সক্ষমতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং তথ্যভিত্তিক পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি কার্যকর এএমএল কাঠামো শুধু নিয়ন্ত্রক বাধ্যবাধকতা পূরণেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং ব্যাংকের সুনাম, গ্রাহকের আস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দেন উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ইনচার্জ) ও ক্যামেলকো কাজী কামাল উদ্দিন আহমেদ। তিনি সরাসরি প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ভার্চুয়াল প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে কর্মকর্তারা সময়োপযোগী জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পান। দ্রুত পরিবর্তনশীল আর্থিক পরিবেশে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রসারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
কর্মশালার কারিগরি সেশনগুলোর শুরুতে প্রারম্ভিক অধিবেশন পরিচালনা করেন এএমএল ডিভিশনের প্রধান, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ডেপুটি ক্যামেলকো আফরোজা খাতুন। তিনি কর্মশালার উদ্দেশ্য, প্রাসঙ্গিকতা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ–সংক্রান্ত সামগ্রিক কাঠামো সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের সুস্পষ্ট ধারণা দেন। টিবিএমএল ও সিবিএমএল সংশ্লিষ্ট ঝুঁকির প্রাথমিক ধারণা তুলে ধরে তিনি বলেন, সচেতনতা বৃদ্ধি, বিধিবিধান মেনে চলা এবং সমন্বিত প্রয়াসই একটি কার্যকর কমপ্লায়েন্স সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সহায়ক।
কর্মশালায় সেশন পরিচালনা করেন দেশের অন্যতম প্রথিতযশা ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. শাহ মো. আহসান হাবিব। তিনি টিবিএমএল–এর ঝুঁকি, সতর্কসংকেত (রেড ফ্ল্যাগ) এবং প্রতিরোধ কৌশল নিয়ে বিশদ আলোচনা উপস্থাপন করেন। কেসভিত্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে তিনি বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করেন, যা অংশগ্রহণকারীদের জন্য কার্যকর দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করে। আলোচনায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য লেনদেনে সম্ভাব্য অপব্যবহার, অতিমূল্যায়ন ও নিম্নমূল্যায়নের কৌশল এবং সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি শনাক্তকরণে ব্যাংক কর্মকর্তাদের করণীয় বিষয়ও তুলে ধরা হয়।
পরবর্তী অধিবেশনে বক্তব্য দেন ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড–এর পরিচালক ও বোর্ড অডিট কমিটির চেয়ারম্যান চৌধুরী এম এ কিউ সারোয়ার। তিনি সিবিএমএল–এর ঝুঁকি সূচক, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন। ঋণভিত্তিক লেনদেনের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য অপব্যবহার, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার দুর্বলতা এবং তা মোকাবিলায় শক্তিশালী নজরদারির প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও তিনি আলোচনা করেন।
কর্মশালায় সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন ন্যাশনাল ব্যাংক ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ শাহ সৈয়দ রাফিউল বারী।
দিনব্যাপী এ কর্মশালায় বক্তাদের উপস্থাপনা, অংশগ্রহণকারীদের সক্রিয় সম্পৃক্ততা এবং সমসাময়িক ঝুঁকি–সংক্রান্ত বিশদ আলোচনা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে কর্মকর্তাদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন।
দেশবার্তা/একে