ই-পেপার |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  মঙ্গলবার | ২৮ জুলাই ২০২৬ | ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ 

সর্বশেষ আপডেট: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১৯:৫৪
চলমান বার্তা:
‘ফ্যামিলি কার্ডে’ দুর্নীতি রুখতে প্রযুক্তিনির্ভর তিন ধাপের যাচাই প্রক্রিয়া
দেশবার্তা ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৭:৩৯ আপডেট: ২৩.০২.২০২৬ ১৩:৩৭  (ভিজিটর : )

বিএনপির এবারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অন্যতম ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ। তবে এই কার্ড বিতরণে দুর্নীতি হতে পারে বলে আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে নানা মহল থেকে। সরকার যেকোনো মূল্যে এই কর্মসূচিতে দুর্নীতি ঠেকাতে চায়। এজন্য নেওয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। তিন পর্যায়ে কঠোর পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এই কার্ড বিতরণ হবে। এতে দুর্নীতির শঙ্কা থাকবে না বলে মনে করছে সরকার।   

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ডের নানা দিক তুলে ধরেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের পথে আরও এক ধাপ এগিয়েছে সরকার। যোগ্য পরিবারগুলোকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদানের ক্ষেত্রে তিন পর্যায়ের কঠোর পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, প্রকৃত অভাবী মানুষ যেন এই সুবিধার বাইরে না থাকে, তা নিশ্চিত করতেই এই মাল্টি-লেভেল স্ক্রিনিং বা পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, সরকারের এই প্রকল্পের প্রাথমিক লক্ষ্য হলো হতদরিদ্র ও অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সদস্যদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তালিকার আওতায় আনা। এই কার্ডের মাধ্যমে মূলত পরিবারে নারীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বাড়ানো এবং তাদের পরিবারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনাই সরকারের মূল উদ্দেশ্য।

জাহিদ হোসেন বলেন, কার্ড বিতরণের পুরো প্রক্রিয়াটি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এতটাই স্বচ্ছ করা হবে, যাতে সেখানে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বা দুর্নীতির সুযোগ না থাকে। এটি সরাসরি প্রকৃত সুবিধাভোগীদের হাতে পৌঁছাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ঈদের আগেই পাইলট প্রকল্প হিসেবে কয়েকটি উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা রয়েছে। দুইজন মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রীসহ ১৫ সদস্যের ‘ফ্যামিলি কার্ড প্রদান সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’ গঠন করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও সচিবদের সমন্বয়ে এ কমিটি করা হয়েছে। আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কমিটিকে প্রাথমিক প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে।

ফ্যামিলি কার্ডের আবেদন যেভাবে

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যমান অনেক সামাজিক ভাতার তুলনায় ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় সহায়তার পরিমাণ বেশি হতে পারে। পাশাপাশি সহায়তা বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে।

জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ভিত্তিতে একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেস তৈরি করা হবে। এতে প্রতিটি পরিবারের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে, ফলে অনিয়ম, ভুয়া তালিকা ও মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ কমবে।

প্রথম ধাপে দেশের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে কার্যক্রম শুরু হবে। পরবর্তীতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে উপকারভোগীদের তালিকা তৈরি করে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে।

যদিও পূর্ণাঙ্গ আবেদন প্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি, তবু আগাম প্রস্তুতি হিসেবে সম্ভাব্য আবেদনকারীদের নিচের কাগজপত্র সংগ্রহে রাখতে বলা হয়েছে— আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি, একটি সচল মোবাইল নম্বর

পাইলট কার্যক্রম শেষে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয় থেকে সরাসরি আবেদন ফর্ম সংগ্রহ করা যাবে। পাশাপাশি ঘরে বসে আবেদন করার সুবিধা দিতে একটি অনলাইন পোর্টাল চালুর প্রস্তুতিও চলছে।

প্রতি পরিবারে একটি করে ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করা হবে। এ কার্ডের মাধ্যমে মাসিক নগদ সহায়তা কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করা হবে।

দেশবার্তা/একে
মতামত লিখুন:
আরও পড়ুন 
Loading...
Loading...
দেশবার্তা    বিজ্ঞাপন    সার্কুলেশন    শর্তাবলি ও নীতিমালা    গোপনীয়তা নীতি    যোগাযোগ   
স্বত্ব © ২০২৬ দেশ বার্তা | সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।