বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেটে আবারও অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তবে এবারের ব্যবস্থায় অতীতের মতো বিশেষ কর সুবিধা না রেখে নিয়মিত করহারেই অর্থ বৈধ করার বিধান রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাজেট ঘোষণার মধ্য দিয়ে সরকারের অর্থনৈতিক নীতিতে নতুন এই দিকনির্দেশনা আসে।
নতুন বিধান অনুযায়ী, আবাসন খাতে বিনিয়োগকৃত অপ্রদর্শিত অর্থ রিটার্নে দেখিয়ে বৈধ করার সুযোগ থাকবে। তবে এজন্য করদাতাকে নির্ধারিত হারে কর পরিশোধ করতে হবে, কোনও বিশেষ ছাড় বা কম হার নয়।
আইন অনুযায়ী, জমি, ফ্ল্যাট বা ভবন ক্রয়ের সময় দলিলে প্রকৃত মূল্য গোপন করা হলে পরবর্তীতে তা রিটার্নে দেখিয়ে বৈধ করা যাবে। ক্রেতাকে প্রকৃত মূল্য ও দলিলমূল্যের পার্থক্যের ওপর ব্যক্তিশ্রেণির করহার অনুযায়ী ৩০ শতাংশ কর দিতে হবে। অপরদিকে বিক্রেতার ক্ষেত্রে ওই পার্থক্যের ওপর ১৫ শতাংশ মূলধনী কর প্রযোজ্য হবে।
অতিরিক্ত শর্ত হিসেবে, যদি কর প্রশাসন স্বপ্রণোদিতভাবে তথ্য উদঘাটন করে, তাহলে সংশ্লিষ্ট করদাতাকে অতিরিক্ত ২০ শতাংশ জরিমানা করও পরিশোধ করতে হবে।
একটি উদাহরণে বলা হয়েছে, কেউ যদি ২ কোটি টাকার ফ্ল্যাট কিনে দলিলে ৫০ লাখ টাকা দেখিয়ে থাকেন, তাহলে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার অপ্রদর্শিত অংশ বৈধ করতে ৩০ শতাংশ হারে ৪৫ লাখ টাকা কর দিতে হবে। একই ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জরিমানাও আরোপিত হতে পারে।
বিক্রেতার ক্ষেত্রেও সমপরিমাণ অপ্রদর্শিত মূল্য ধরা হলে ১৫ শতাংশ হারে কর প্রযোজ্য হবে, যা উদাহরণ অনুযায়ী ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকার মতো দাঁড়ায়।
তবে নতুন ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো- এই পদ্ধতিতে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার পর এর উৎস নিয়ে আর কোনো প্রশ্ন তোলা যাবে না। অর্থাৎ কর পরিশোধের পর ওই বিনিয়োগ বা সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশাসনিক তদন্ত বা আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে না।
তবে শর্ত রয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি আগে থেকেই ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত হন বা আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হয়, তাহলে তিনি এই সুবিধা পাবেন না।
দেশবার্তা/একে