২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট আমদানি করা হার্টের রিং (স্টেন্ট), চোখের ইন্ট্রাওকুলার লেন্স এবং কিডনি ডায়ালাইসিসের প্রয়োজনীয় উপকরণের ওপর বিদ্যমান ভ্যাট ও অগ্রিম কর সম্পূর্ণ মওকুফের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে চিকিৎসা খাতে সাধারণ মানুষের পকেটের খরচ (আউট অব পকেট এক্সপেন্ডিচার) অনেকটাই কমে আসবে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবায় আউট অব পকেট এক্সপেন্ডিচার অর্থাৎ ব্যক্তিগত চিকিৎসা ব্যয় বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশি।
তিনি জানান, সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে আমদানিকৃত হার্টের রিং বা স্টেন্ট এবং চোখের ইন্ট্রাওকুলার লেন্স-এর সরবরাহ পর্যায়ে বিদ্যমান ১০ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণ অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে প্রতিটি হার্টের রিং বা স্টেন্টের দাম প্রায় ২০ হাজার টাকা এবং প্রতিটি ইন্ট্রাওকুলার লেন্সের দাম প্রায় ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রীর এ ঘোষণার ফলে হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য প্রতিটি হার্টের রিং বা স্টেন্টে প্রায় ২০ হাজার টাকা এবং চোখের ছানি অপারেশনের ক্ষেত্রে প্রতিটি লেন্সে প্রায় ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ কমবে, যা সাধারণ রোগীদের জন্য একটি বড় স্বস্তি।
এ ছাড়া দেশের বিপুল সংখ্যক কিডনি রোগীর ডায়ালাইসিস খরচ কমানোর লক্ষ্যে আমদানিকৃত বিশেষ টিউবিং সেটের ওপর থেকেও কর তুলে নেওয়ার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। বাজেট বক্তৃতায় তিনি উল্লেখ করেন, কিডনি রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহার্য ব্লাড টিউবিং সেট ফর হেমোডায়ালাইসিসের আমদানি পর্যায়ে প্রযোজ্য ৭.৫ শতাংশ আগাম কর সম্পূর্ণরূপে অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব করছি। এর ফলে কিডনি ডায়ালাইসিসের খরচ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারের এ জীবনমুখী ও স্বাস্থ্যবান্ধব কর অব্যাহতির সিদ্ধান্তটি পাস ও কার্যকর হলে দেশের মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের চিকিৎসা ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমবে এবং সাধারণ মানুষ উন্নত চিকিৎসাসেবার সুফল সহজে ভোগ করতে পারবে।
দেশবার্তা/একে