ই-পেপার |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  শুক্রবার | ১২ জুন ২০২৬ | ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ 
https://thedailydeshbarta.com/ad/1756793693_Self-1.jpg
https://thedailydeshbarta.com/ad/1756793710_Self-2.jpg

সর্বশেষ আপডেট: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১৮:২২
চলমান বার্তা:
বেসরকারি বিনিয়োগে মন্দা, বাজেটের লক্ষ্য নিয়ে যা বলছে সিপিডি
দেশবার্তা প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১৬:০৫  (ভিজিটর : )

বর্তমানে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির প্রায় সব প্রধান সূচকই গভীর চাপের মুখে রয়েছে। এই পরিস্থিতিকে সামনে রেখে ঘোষিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের সামষ্টিক অর্থনীতির লক্ষ্যমাত্রাগুলো অর্জন করাই সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

শুক্রবার (১২ জুন) সকালে রাজধানীর গুলশানের হোটেল লেকশোরে আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: সিপিডির পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির পক্ষ থেকে এই মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, দেশের বর্তমান সামষ্টিক অর্থনীতির সূচকগুলো কোনোভাবেই স্বস্তিদায়ক অবস্থানে নেই। সাম্প্রতিক সময়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে কিছুটা ইতিবাচক গতি দেখা গেলেও অন্যান্য প্রধান সূচকগুলোতে আশানুরূপ কোনো উন্নতি হয়নি। রপ্তানি আয় এবং রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে কিছুটা প্রবৃদ্ধি বজায় থাকলেও তা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য যথেষ্ট নয়।

বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের সমালোচনা করে সিপিডি জানায়, আগামী অর্থবছরের জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। অথচ অর্থ মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব প্রাক্কলন অনুযায়ী চলতি অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশ এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে তা ৪ শতাংশের কিছু বেশি। ফলে বাস্তবতার তুলনায় এই লক্ষ্যমাত্রা অনেক বেশি ধরা হয়েছে।

বিনিয়োগ পরিস্থিতির বিষয়ে ফাহমিদা খাতুন উল্লেখ করেন, দেশে সরকারি বিনিয়োগ কিছুটা বাড়লেও বেসরকারি বিনিয়োগে এক ধরনের মন্দাভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আগে যেখানে বেসরকারি বিনিয়োগের হার জিডিপির ২৩ থেকে ২৪ শতাংশের ঘরে ছিল, বর্তমানে তা আশঙ্কাজনকভাবে কমে ২১ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে এসেছে। বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ না বাড়লে কর্মসংস্থান তৈরি করা কঠিন হবে।

দেশের সাধারণ মানুষের প্রধান সংকট মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক বলেন, বর্তমানে দেশের মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৪ শতাংশের ওপরে অবস্থান করছে। অথচ আগামী অর্থবছরের জন্য এই মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা অত্যন্ত কঠিন হবে।

তিনি আরও বিশ্লেষণ করেন, মূলত খাদ্য ও জ্বালানি খাতের সরবরাহজনিত অব্যবস্থাপনার কারণেই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্য ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। 

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি এবং একই সঙ্গে কার্যকর বাজার তদারকির ওপর বিশেষ জোর দেন তিনি।

বৈদেশিক খাতের লক্ষ্যমাত্রাগুলোকে ‘উচ্চাকাঙ্ক্ষী’ আখ্যা দিয়ে সিপিডি জানায়, ২০২৭ সাল নাগাদ রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ৯ শতাংশ এবং রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ১৫ শতাংশ ধরা হয়েছে। এর পাশাপাশি দেশের রিজার্ভ ৪১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার, তা বর্তমান বাস্তবতায় একেবারেই আকাশকুসুম। উপরন্তু, বাজারে ডলারের বিনিময় হার ১২৭ টাকা হওয়ার যে সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে, তা দেশীয় মুদ্রা টাকার আরও বড় অবমূল্যায়নের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।

বাজেটের ঋণ কাঠামো বিশ্লেষণ করে ড. ফাহমিদা খাতুন জানান, বর্তমানে জিডিপির তুলনায় দেশের ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) মানদণ্ড অনুযায়ী এটি এখনও সহনশীল সীমার নিচে থাকলেও, ঋণের স্থায়িত্বের ঝুঁকি এখন আর ‘নিম্ন’ পর্যায়ে নেই; বরং তা দ্রুত ‘মাঝারি’ ঝুঁকির দিকে ধাবিত হচ্ছে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে সিপিডি উল্লেখ করেছে বাজেট ঘাটতি মেটাতে বৈদেশিক ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতাকে। সংস্থাটির তথ্যমতে, বাজেট ঘাটতি পূরণে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদানের ওপর সরকারের নির্ভরশীলতা গত বছরের ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে একলাফে বাড়িয়ে এবার ৪৭ দশমিক ৭ শতাংশ করা হয়েছে।

পর্যালোচনার শেষ অংশে সিপিডি মন্তব্য করে, বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানোর যে লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে, তা কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মানুষের আয় বৃদ্ধির জন্য ইতিবাচক। তবে বর্তমান সামষ্টিক অর্থনীতির যে বাস্তব চিত্র, তাতে এই লক্ষ্যমাত্রাগুলো সফলভাবে স্পর্শ করাই হবে সরকারের জন্য প্রধান বাধা। বাজেটের সুফল পেতে হলে আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকল্প বাস্তবায়নের দক্ষতা বাড়ানো ব্যতিরেকে কোনো বিকল্প নেই।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান এবং সিনিয়র গবেষণা অ্যাসোসিয়েট হেলেন মাসিয়াত প্রিয়তিসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

দেশবার্তা/একে
মতামত লিখুন:
আরও পড়ুন 
নির্বাচিত সংবাদ
মেসি-নেইমার দ্বৈরথ: শোবিজের তারকারা কে কোন দলে?
মেসি-নেইমার দ্বৈরথ: শোবিজের তারকারা কে কোন দলে?
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তর, ওয়াসাসহ বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ পদে রদবদল
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তর, ওয়াসাসহ বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ পদে রদবদল
বেসরকারি বিনিয়োগে মন্দা, বাজেটের লক্ষ্য নিয়ে যা বলছে সিপিডি
বেসরকারি বিনিয়োগে মন্দা, বাজেটের লক্ষ্য নিয়ে যা বলছে সিপিডি
স্বত্ব © ২০২৫ দেশ বার্তা | সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।
https://thedailydeshbarta.com/ad/1756793725_Self-3.jpg
https://thedailydeshbarta.com/ad/1756793740_Self-4.jpg