ই-পেপার |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  বৃহস্পতিবার | ২৫ জুন ২০২৬ | ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ 

সর্বশেষ আপডেট: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১৯:০৯
চলমান বার্তা:
ট্রাম্প
রাশিয়ার উচিত ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানো
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ১১:২৪ আপডেট: ১৭.০৬.২০২৬ ১৪:০৫  (ভিজিটর : )

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, রাশিয়ার উচিত ইউক্রেনের সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানো এবং তিনি এই যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যা যা সম্ভব তার সবকিছুই করবেন। 

ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও জি-৭ নেতাদের সঙ্গে এক যৌথ বৈঠকের পর তিনি এই মন্তব্য করেন।

গত মঙ্গলবার ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বাঁ শহরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি (যুদ্ধ থামাতে) যা পারি, তাই করবো।’ 

তিনি উল্লেখ করেন, যুদ্ধক্ষেত্রে দুই পক্ষেরই বিপুলসংখ্যক তরুণ প্রাণ হারাচ্ছেন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

ট্রাম্প আরও বলেন, রাশিয়ার এখন একটি চুক্তিতে আসা উচিত। আমি এর আগে আটটি যুদ্ধের সমাধান করেছি। আমার ধারণা ছিল, এই যুদ্ধটির সমাধান করা সবচেয়ে সহজ হবে।

তবে ট্রাম্প এর আগে আটটি যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছেন বলে যে দাবি করেছেন, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে।

এদিকে বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি লিখেছেন, ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এগিয়ে নেওয়াই ছিল এই আলোচনার মূল বিষয়, যাতে রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধ করতে বাধ্য হয়। এই মুহূর্তে আমাদের শান্তি প্রয়োজন।

জেলেনস্কি আরও জানান, জি-৭ নেতাদের কাছ থেকে ইউক্রেন কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ, সেগুলোর উৎপাদন লাইসেন্স প্রদান, শীতকালীন বিশেষ সহায়তা প্যাকেজ এবং রাশিয়ার ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা ও চাপ বৃদ্ধি করা।

প্রতিশ্রুতিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়ে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আলোচিত প্রতিশ্রুতিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা। রাশিয়াকে স্পষ্ট বুঝতে হবে যে তাদের এই আগ্রাসী যুদ্ধকে বিশ্ব কখনোই স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে গ্রহণ করবে না। যারা এই সংকটে আমাদের সহায়তা করছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ।

বৈঠকে উপস্থিত ইউরোপীয় কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, ট্রাম্প ও জি-৭ নেতাদের মধ্যকার আলোচনার পরিবেশ ছিল অত্যন্ত ইতিবাচক ও গঠনমূলক।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট এক্সে লিখেছেন, ইউক্রেনের পক্ষে পরিস্থিতি এখন বদলাচ্ছে। ২০২৬ সালের বাস্তব পরিস্থিতি ২০২৫ সালের তুলনায় অনেকটাই ভিন্ন। ইউক্রেন অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে সম্মুখসারির যুদ্ধক্ষেত্র ধরে রেখেছে এবং রাশিয়ার ক্লান্তি এখন স্পষ্ট। এটাই আমাদের সমর্থন আরও জোরদার করার উপযুক্ত সময়।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি ও হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গ

ইউক্রেন সংকটের পাশাপাশি জি-৭ নেতারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্প্রতি হওয়া শান্তি চুক্তি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেন। বৈঠকে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ দ্রুত পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং এর বিকল্প জ্বালানি পরিবহন পথ চিহ্নিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সম্মেলনের আয়োজক ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হলো একটি দৃঢ়, কার্যকর ও চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন করা।

তিনি জানান, ফ্রান্স ও তাদের পশ্চিমা মিত্ররা দ্রুত পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত, যাতে প্রণালিটি শান্তিপূর্ণভাবে পুনরায় চালু করা যায়। নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনুকূলে এলে ওই আন্তর্জাতিক জলপথে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করতে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য একটি বিশেষ যৌথ উদ্যোগের পক্ষে কাজ করছে।

এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, আগামী শুক্রবারের মধ্যে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত হবে। ওই দিন সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।

গত সোমবার ডিজিটালভাবে স্বাক্ষরিত ওই চুক্তির আওতায় ৬০ দিনের একটি অন্তর্বর্তীকালীন সময়সীমা কার্যকর হবে। এই সময়ের মধ্যে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কর্মসূচি এবং দেশটির ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন জটিল ও সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলবে।

সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে পরবর্তী অর্থাৎ দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা আরও সহজ ও ফলপ্রসূ হবে বলে তিনি আশা করছেন। সূত্র: আল-জাজিরা

দেশবার্তা/একে
মতামত লিখুন:
আরও পড়ুন 
https://thedailydeshbarta.com/ad/1781938701_RightPanelSquare.jpg
Loading...
Loading...
দেশবার্তা    বিজ্ঞাপন    সার্কুলেশন    শর্তাবলি ও নীতিমালা    গোপনীয়তা নীতি    যোগাযোগ   
স্বত্ব © ২০২৬ দেশ বার্তা | সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।