চাঁদপুর আদালতে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি গোলাম আজমকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার সকাল ৮টার দিকে রাজধানীর মাদারটেকের নন্দীপাড়া এলাকার একটি বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে গত সোমবার পল্টন থানা-পুলিশ তাঁকে একবার গ্রেপ্তার করলেও অভিনব কায়দায় নামাজ পড়ার বাহানায় তিনি পালিয়ে যান। অবশেষে গোয়েন্দা পুলিশের সহায়তায় আজ তাঁকে পুনরায় গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
গ্রেপ্তার গোলাম আজম ঢাকার পুরানা পল্টনের ‘রিকাব ইন্টারন্যাশনাল ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস’ এর স্বত্বাধিকারী।
আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জাকির হোসেন মিজি নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে চাঁদপুর আদালতে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসন আইন, ২০১৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় গোলাম আজমের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পাওয়ার পর গত সোমবার (১৫ জুন) পল্টন থানা-পুলিশের একটি দল পুরানা পল্টনের ৫৫/১ ইসলাম এস্টেটের পঞ্চম তলায় রিকাব ইন্টারন্যাশনালের কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে গোলাম আজমকে আটক করে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, আটকের পর আসরের নামাজের সময় হলে গোলাম আজম পুলিশ সদস্যদের কাছে নামাজ আদায়ের সুযোগ চান। মানবিক কারণে পুলিশ তাঁকে সেই সুযোগ দিলে তিনি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে নিজেই ইমামতি করে জামাতে নামাজ শুরু করেন। কিন্তু প্রথম রাকাত সম্পন্ন করার পর দ্বিতীয় রাকাতের সিজদা থেকে উঠে তিনি পেছনে থাকা মুসল্লি ও পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে পালিয়ে যান। এ ঘটনার পর পল্টন থানা-পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক দল তাঁকে পুনরায় গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান শুরু করে।
স্থানীয় ও ব্যবসায়িক বিভিন্ন সূত্রের দাবি, গোলাম আজম দীর্ঘদিন ধরে জনশক্তি রপ্তানি ও ম্যানপাওয়ার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাঁর বিরুদ্ধে অতীতেও মানবপাচার-সংক্রান্ত একাধিক মামলার অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে এলাকায় নিজেকে তিনি বিএনপির প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচয় দিলেও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, দলে তাঁর কোনো সাংগঠনিক পদ নেই। এমনকি বিগত অনেক বছর আগেই তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
পল্টন থানা-পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অভিযোগ ও আসামি পলায়নের সার্বিক বিষয়গুলো তদন্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
দেশবার্তা/একে