বগুড়ায় ৮ বছরের শিশু রিফাত হোসেনকে হত্যার ঘটনায় পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই ঘটনায় আরও পাঁচ আসামি নাবালক হওয়ায় তাদের ১০ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে।
গতকাল বগুড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মো. আনোয়ারুল হক এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- শাজাহানপুর উপজেলার খাদাস এলাকার আবুল কালাম আজাদ, সাগর, সেলিম ইসলাম, মেহেদী হাসান ও রাজু ইসলাম। এদের মধ্যে সাগর ও সেলিম ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে পলাতক আছেন।
আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত শিশু হিসেবে সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- সজিব হাসান, মফিজুল ইসলাম, জাহিদ হাসান, বোরহান আলী ও বায়েজিদ হোসেন। তারা সবাই খাদাস গ্রামের বিভিন্ন পাড়ার বাসিন্দা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত রিফাত শাজাহানপুর উপজেলার খাদাস হাটখোলা এলাকার এনামুল হকের ছেলে। আসামিরা সবাই নিহতের পরিবারের প্রতিবেশী ও পরিচিত। ২০১৮ সালের ১৫ জুলাই তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে ১৮ জুলাই শাজাহানপুর থানায় মামলা করেন এনামুল হক।
আদালত সূত্র জানায়, এনামুল হক প্রবাসী ছিলেন। দেশে ফেরার পর আবুল কালাম আজাদ তার কাছে বিভিন্ন সময় টাকা দাবি করতেন। ঘটনার দিনও তিনি ১ লাখ টাকা ধার চান, কিন্তু এনামুল হক টাকা দিতে অস্বীকার করেন। এরপর বিকেল থেকে এনামুল হকের বড় ছেলে রিফাত হোসেনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি।
এর তিন দিন পর স্থানীয় ইউপি সদস্যের স্বামীর মাধ্যমে এনামুল হক জানতে পারেন, পার্শ্ববর্তী পোয়ালগাছা গ্রামের একটি সেতুর নিচে একটি শিশুর মরদেহ পাওয়া গেছে। সেখানে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি রিফাতের বলে শনাক্ত করেন। পরে নিহতের বাবা শাজাহানপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আলী আজগর আলী জানান, মামলায় মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছিল। তবে মাসুদ রানা নামে এক আসামির মৃত্যু হওয়ায় তার নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর আগে সব আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
দেশবার্তা/একে