ই-পেপার |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  বুধবার | ১ জুলাই ২০২৬ | ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ 

সর্বশেষ আপডেট: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ২১:২৭
চলমান বার্তা:
বৈরী আবহাওয়া ও শ্রমিক সংকটে বিপাকে বোরো চাষিরা
পিরোজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ১৩:৪৬  (ভিজিটর : )

পিরোজপুরের বিস্তূর্ণ মাঠজুড়ে এখন পেকে গেছে বোরো ধান। সোনালি ধানে ছেয়ে থাকা মাঠ থেকে দ্রুত ফসল ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। তবে তীব্র শ্রমিক সংকট ও কয়েক দিনের বৈরী আবহাওয়ার কারণে সময়মতো ধান কাটতে না পেরে চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন তাঁরা। 

জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ জমির ধান পেকে গেলেও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনেক কৃষক সময়মতো ফসল ঘরে তুলতে পারছেন না। কোথাও কোথাও বৃষ্টি ও ঝোড়ো আবহাওয়ার কারণে পাকা ধান জমিতে নুয়ে পড়েছে। এতে ফলন ও উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকের বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা বাড়ছে।

কৃষকেরা জানান, গত বছর বোরো ধানের ফলন ও বাজারমূল্য ভালো থাকায় এ বছর লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও আশানুরূপ হয়েছে এবং ধানে রোগবালাইয়ের আক্রমণ তুলনামূলক কম ছিল। কিন্তু মৌসুমের শেষ সময়ে এসে বৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে ধান কাটার কাজে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটছে। একই সঙ্গে তীব্র শ্রমিক সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

সদর উপজেলার জুজখোলা এলাকার ধান মাড়াইকারী মো. সালাম বলেন, মাঠের প্রায় সব ধান পেকে গেছে, কিন্তু পর্যাপ্ত শ্রমিক না থাকায় কৃষকেরা সময়মতো ধান কাটতে পারছেন না। এই বৈরী আবহাওয়ার কারণে ধান শুকানো ও মাড়াই করতেও মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। 

আরেক কৃষক তাপস লালা জানান, জমিতে জমে থাকা পানিতে দাঁড়িয়ে কাজ করতে হয় এবং প্রতিকূল আবহাওয়ায় ঝুঁকি থাকায় শ্রমিকেরা আগের তুলনায় দৈনিক ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেশি মজুরি দাবি করছেন। ফলে আকস্মিকভাবে উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে।

অনুরূপ সংকটের কথা জানান সদর উপজেলার রায়েরকাঠী এলাকার কৃষক ফজলু হাওলাদার। তিনি এ বছর পাঁচ বিঘা জমিতে লালতীর ময়না ও হীরা-২ জাতের ধান চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছিলেন। কিন্তু শ্রমিক সংকটের কারণে এখন সময়মতো ধান কাটতে পারছেন না। 

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আগে যেখানে একজন শ্রমিকের মজুরি ছিল ৭০০ টাকা, এখন তা বেড়ে ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে, যার সঙ্গে রয়েছে দুই বেলা খাবারের খরচ। এক বিঘা জমিতে ধান উৎপাদনে যেখানে প্রায় ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়, বাজারে ধানের দাম সেই তুলনায় অনেক কম। ফলে একদিকে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও অন্যদিকে ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষকেরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। 

কৃষিবান্ধব নীতিমালা ও কার্যকর তদারকি না থাকলে ভবিষ্যতে অনেক কৃষকই ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

এই সংকটকালীন পরিস্থিতিতে নাজিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্ভিদ সংরক্ষণ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, কৃষকেরা যাতে নির্বিঘ্নে বোরো ধান সংগ্রহ করতে পারেন, সে জন্য উপজেলা পর্যায়ে কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পিরোজপুরের সাতটি উপজেলায় চলতি মৌসুমে ৩৫ হাজার ৯৩ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে বাস্তবে আবাদ হয়েছে ৩৪ হাজার ৫ হেক্টর জমিতে। এ বছর জেলায় মোট ২ লাখ ৫০ হাজার ৩০ মেট্রিক টন বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং কৃষি বিভাগ আশা করছে যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত জেলার প্রায় ৫৫ শতাংশ বোরো ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট ধান দ্রুত কাটার জন্য কৃষকদের যান্ত্রিক পদ্ধতি ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা নিয়মিত তদারকি ও পরামর্শ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

প্রতিনিধি/একে
মতামত লিখুন:
আরও পড়ুন 
https://thedailydeshbarta.com/ad/1781938701_RightPanelSquare.jpg
Loading...
Loading...
দেশবার্তা    বিজ্ঞাপন    সার্কুলেশন    শর্তাবলি ও নীতিমালা    গোপনীয়তা নীতি    যোগাযোগ   
স্বত্ব © ২০২৬ দেশ বার্তা | সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।