ই-পেপার |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  বুধবার | ১ জুলাই ২০২৬ | ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ 

সর্বশেষ আপডেট: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ২১:২৭
চলমান বার্তা:
তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধে ভাঙন, তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি
রংপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ১৪:২০  (ভিজিটর : )

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু রক্ষা বাঁধ ভাঙনের কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) রংপুরের প্রধান প্রকৌশলীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানানো হয়। সেতু রক্ষা বাঁধের ভাঙন পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও সমাধানের লক্ষ্যে ঢাকা থেকে এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দলও ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসবে।

জানা গেছে, উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীতে পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় এলজিইডির ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাঁশের পাইলিং ভেঙে গেছে। একই সঙ্গে সেতু রক্ষা বাঁধেও ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে দ্বিতীয় তিস্তা সেতু এবং রংপুর-লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়ক।

গত বছর শুরু হওয়া ভাঙন ঠেকাতে অস্থায়ীভাবে বাঁশের পাইলিং নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে নির্মাণের ছয় মাস না যেতেই পানির প্রথম ধাক্কায় সেটি ভেঙে যায়। ফলে সেতুর উত্তর-পশ্চিম প্রান্তের রক্ষা বাঁধে নতুন করে ভাঙন শুরু হয়। ইতোমধ্যে বাঁধের প্রায় ৩০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে সেখানে প্রায় ৬০ ফুট গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত বছর ভাঙনের সময় দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতুর রক্ষা বাঁধের ১০০ মিটারের বেশি অংশ নদীগর্ভে চলে যায়। এরপর স্থায়ী সমাধানের পরিবর্তে অস্থায়ীভাবে বাঁশের পাইলিং বসানো হয়েছিল।

লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, ‘শুরুর দিকে ভাঙন দেখা দিলে যদি দুই-এক লাখ টাকার জিও ব্যাগ ফেলা হতো, তাহলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন কোনো বরাদ্দ না আসায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। গত বছর থেকেই বলা হচ্ছিল বরাদ্দ আসবে, কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। বুয়েটের এক বিশেষজ্ঞের পরামর্শে বাঁশের পাইলিং করা হয়েছিল, কিন্তু সেটি টেকেনি। ১৪ লাখ টাকার কাজ প্রথম ধাক্কাতেই ধ্বংস হয়ে গেছে।’

এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী শাহ মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘গত বছর ভাঙন শুরু হলে এলজিইডির অভিজ্ঞতার সীমাবদ্ধতার কারণে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বুয়েটের এক প্রকৌশলীর পরামর্শ নেওয়া হয়। তাঁদের সুপারিশ অনুযায়ী ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁশের পাইলিং (স্পার) নির্মাণ করা হয়েছিল।’

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার জানান, ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শন করে একটি প্রতিবেদন জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে।

রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, ‘পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

প্রতিনিধি/একে


মতামত লিখুন:
আরও পড়ুন 
https://thedailydeshbarta.com/ad/1781938701_RightPanelSquare.jpg
Loading...
Loading...
দেশবার্তা    বিজ্ঞাপন    সার্কুলেশন    শর্তাবলি ও নীতিমালা    গোপনীয়তা নীতি    যোগাযোগ   
স্বত্ব © ২০২৬ দেশ বার্তা | সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।