বিশ্বকাপ মানেই খবরের মহাসমুদ্র। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা সাংবাদিকরা দিন-রাত ছোটেন নতুন সব খবরের খোঁজে, যার চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হয় স্টেডিয়ামের মিডিয়া সেন্টারে বসে। সাধারণত বড় টুর্নামেন্ট বা বৈশ্বিক গেমসে খেলা শুরুর কয়েক দিন আগে থেকেই চালু হয়ে যায় মিডিয়া সেন্টার, যা টুর্নামেন্ট শেষ হওয়া পর্যন্ত প্রায় ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকে। তবে এবারের বিশ্বকাপে দেখা গেছে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী এক চিত্র।
এবার যে ভেন্যুতে যেদিন খেলা, ঠিক তার আগের দিন এবং ম্যাচের দিনই কেবল মিডিয়া সেন্টার খোলা রাখা হচ্ছে। এই দুই দিন ছাড়া বাকি সময় স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই। এমনকি স্টেডিয়ামের গেটে সাংবাদিকদের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড স্ক্যান করলে স্ক্রিনে লাল রঙে ভেসে উঠছে- ‘মিডিয়া সেন্টার ক্লোজড’।
সাধারণত দুই ফরম্যাটে বিশ্বকাপ কাভার করেন সাংবাদিকরা। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর সাংবাদিকরা মূলত নিজ দলের পেছন পেছন শহর থেকে শহরে ছুটে বেড়ান।
অন্যদিকে, যেসব দেশ বিশ্বকাপে অংশ নেয়নি, সেই সব দেশের সাংবাদিকরা ভেন্যুভিত্তিক খবর সংগ্রহ করেন। প্রতিদিন স্টেডিয়ামে গিয়ে খবরাখবর সংগ্রহ ও লেখালেখি যাদের নিয়মিত অভ্যাস, বিশ্বকাপের এই নতুন ও কঠোর নিয়মের কারণে এবার তাদের পড়তে হচ্ছে ভিন্ন এক অভিজ্ঞতায়।
বিলিয়ন ডলারের এই মেগা ইভেন্টে দায়িত্বরত সংবাদকর্মীদের জন্য মিডিয়া সেন্টারে সৌজন্যমূলক খাবার বলতে বরাদ্দ কেবল পানি। এর বাইরে আর কোনো খাবারের ব্যবস্থা নেই। অবশ্য প্রতিটি স্টেডিয়ামেই রয়েছে মিডিয়া ক্যাফে, তবে সেখানে খাবারের দাম সাধারণের চেয়ে অনেকটাই চড়া।
শুধু নিয়মকানুনই নয়, একেক স্টেডিয়ামে প্রেস কনফারেন্সের ব্যবস্থাও একেক রকম। বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় ভেন্যু নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে প্রেস কনফারেন্স কক্ষটি রাখা হয়েছে মূল মিডিয়া সেন্টারের ভেতরেই। ফলে খেলা শেষে কোচ কিংবা খেলোয়াড়দের হেঁটে অথবা ছোট শাটল গাড়িতে চড়ে সেখানে আসতে হয়।
অন্যদিকে, ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামের চিত্র ভিন্ন। সেখানে প্রেস কনফারেন্স রুমটি আলাদা হলেও মূল স্টেডিয়ামের ভেতরেই অবস্থিত। ফলে ম্যাচ শেষে কোচ বা খেলোয়াড়দের বাড়তি ঝক্কি নিয়ে বাইরে বের হতে হয় না।
দেশবার্তা/একে