আইনি লড়াইয়ে আপাতত স্বস্তি পেলেন অভিনেত্রী ও সাবেক সাংসদ মিমি চক্রবর্তী। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআরের কার্যকারিতার ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্ট।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আপাতত মিমির বিরুদ্ধে কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। বিচারপতি কৌশিক চন্দের একক বেঞ্চ এ অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দেন।
বনগাঁর একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে আয়োজক তনয় শাস্ত্রীর সঙ্গে মিমির বিরোধের জেরেই আইনি জটিলতার সূত্রপাত। ঘটনাটি চলতি বছরের জানুয়ারির।
তনয় শাস্ত্রীর অভিযোগ, অনুষ্ঠানে মিমির উপস্থিত হওয়ার কথা ছিল রাত সাড়ে ১০টায়। তবে তিনি পৌঁছান প্রায় রাত পৌনে ১২টায়। ফলে প্রশাসনের নির্ধারিত সময়সীমার কারণে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই অনুষ্ঠান শেষ করতে হয়।
তনয়ের দাবি, বিষয়টি মঞ্চে জানানো হলে অভিনেত্রী অপমানিত বোধ করেন এবং পরে তাঁর বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তোলেন।
পরিস্থিতি ক্রমেই আইনি রূপ নেয়। দোল উৎসবের আগে, গত ২ মার্চ বনগাঁ আদালতে মিমি চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেন তনয় শাস্ত্রী।
সে সময় অভিযোগকারীর আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি জানিয়েছিলেন, ‘মানহানির মামলায় ২০ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দাবির পাশাপাশি অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলাও করা হয়েছে। মিমি নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠানে না এসেও ২ লাখ ৬৫ হাজার রুপি পারিশ্রমিক নিয়েছেন। দ্বিতীয় মামলাটি সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই করা হয়েছে।’
তরুণজ্যোতি আরও অভিযোগ করেন, ‘মিমির আচরণ যথাযথ ছিল না। প্রথমত, তিনি অনেক দেরিতে অনুষ্ঠানে আসেন। মাত্র ১৫ মিনিট অনুষ্ঠান করেন। রাত ১২টার পর অনুষ্ঠানের অনুমতি ছিল না। ফলে ওই সময়ের মধ্যেই অনুষ্ঠান শেষ করতে হয়। মিমি অকারণে সমস্ত দোষ তনয়ের ওপর চাপিয়েছেন। মিথ্যা অভিযোগে আমার মক্কেলকে সংশোধনাগারে পাঠিয়েছেন। তনয় তাঁর সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের বিচার চান।’
তবে হাইকোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশে আপাতত স্বস্তি পেয়েছেন মিমি। আদালতের এ রায়ের পর তনয় শাস্ত্রীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
দেশবার্তা/একে