ই-পেপার |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  বুধবার | ১ জুলাই ২০২৬ | ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ 

সর্বশেষ আপডেট: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ২১:২৭
চলমান বার্তা:
উদ্ধারে ভরসা কেবলই ভাগ্য
ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলায় নিহত বেড়ে ১৭১৯
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ১৪:১৩ আপডেট: ৩০.০৬.২০২৬ ১৮:২৮  (ভিজিটর : )

ভেনেজুয়েলায় গত সপ্তাহে পরপর দুটি ভূমিকম্পের পরও উদ্ধার অভিযান শেষ হয়নি। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় এখনও পর্যাপ্ত সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজের বড় অংশই স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর নির্ভর করছে। ফলে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধার হওয়া এখন অনেকটাই ভাগ্যের ওপর নির্ভর করছে। 

মঙ্গলবার (৩০ জুন) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলোর একটি লা গুয়াইরা বন্দরের বাসিন্দারা তাদের স্বজন ও প্রতিবেশীদের খুঁজে বের করতে শাবল, হাতুড়ি ও কোদাল ব্যবহার করছেন। এখনও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

সোমবার ভোরে দেশটিতে একটি পরাঘাত অনুভূত হয়েছে। তবে এতে নতুন করে কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।

দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এটিকে ভেনেজুয়েলার ইতিহাসের ‘সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ’ বলে অভিহিত করেছেন।

বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৭১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সহায়তা পৌঁছালেও গুরুত্বপূর্ণ সময় পেরিয়ে যাওয়ায় জীবিতদের খুঁজে পাওয়ার আশা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। সোমবার ভোরে ১০০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার পর ২১ বছর বয়সী এক যুবককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

বিবিসি জানিয়েছে, বুধবার উত্তরাঞ্চলের লা গুয়াইরা রাজ্যে মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে প্রায় ৮০০টি ভবন ধসে পড়ে। সর্বশেষ সোমবার কারাকাস ও লা গুয়াইরায় ৪ দশমিক ৬ মাত্রার একটি পরাঘাত অনুভূত হয়েছে।

বিবিসি জানিয়েছে, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর রাস্তায় ভেনেজুয়েলার পুলিশ ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতি দেখা গেলেও উদ্ধার অভিযানে তাদের তেমন দেখা যায়নি।

কারাকাসের পশ্চিমে অবস্থিত পাহাড়ি এলাকা এল জুনকুইতোর বাসিন্দারা রয়টার্সকে বলেছেন, উদ্ধার অভিযানে খুব কম সরকারি কর্মকর্তাকে দেখা গেছে। কৃষক ও অন্যান্য বাসিন্দাদের সরবরাহ করা নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীই দুর্গত মানুষের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সোমবার দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট বলেন, ২৫ হাজারেরও বেশি জরুরি কর্মী, পুলিশ সদস্য ও সেনাসদস্য ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় কাজ করছেন। এখন প্রতিটি জীবন বাঁচানোই আমাদের জন্য বড় অর্জন।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নিরাপত্তার মাত্রা নির্ধারণে রঙভিত্তিক সংকেত পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে। এর ভিত্তিতেই ঠিক করা হবে কারা নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য ইতোমধ্যে অস্থায়ী আশ্রয়শিবির স্থাপন করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের আবাসিক মানবিক সমন্বয়কারী জিয়ানলুকা রামপোলা দেল তিনদারো বলেন, ভূমিকম্পের পর ৫০০টিরও বেশি পরাঘাত হয়েছে। এতে অন্তত ২ হাজার ৫০০টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার বেশিরভাগই সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়েছে।

তিনি বলেন, জাতিসংঘ উদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে ১০ হাজার মৃতদেহ সংরক্ষণের ব্যাগ সংগ্রহ করছে। মৃতের সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে। সূত্র: বিবিসি

দেশবার্তা/একে
মতামত লিখুন:
আরও পড়ুন 
https://thedailydeshbarta.com/ad/1781938701_RightPanelSquare.jpg
Loading...
Loading...
দেশবার্তা    বিজ্ঞাপন    সার্কুলেশন    শর্তাবলি ও নীতিমালা    গোপনীয়তা নীতি    যোগাযোগ   
স্বত্ব © ২০২৬ দেশ বার্তা | সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।