তুরস্কজুড়ে এক বিশাল পথকুকুর ধরার অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ১২ লাখ কুকুর আটক করেছে দেশটির সরকার। তবে আশ্রয়কেন্দ্র বা অন্য কোথাও আইনবহির্ভূতভাবে কুকুর হত্যা করা হচ্ছে- এমন অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
সম্প্রতি তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপদেষ্টা আহমেত ইয়াভুজ কারাচা দেশটির পার্লামেন্টের কৃষি, বন ও গ্রামীণ বিষয়ক কমিটিকে এই অভিযানের সর্বশেষ তথ্য জানান।
তিনি জানান, বর্তমানে তুরস্কে পথকুকুরের সংখ্যা আনুমানিক ১২ লাখ ৫০ হাজার। এর মধ্যে প্রায় ১২ লাখ কুকুর ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে, যা মোট পথকুকুরের প্রায় ৭৮ শতাংশ। অবশ্য এর আগে দেশে পথকুকুরের সংখ্যা ৪০ লাখ বলে ধারণা করা হলেও সরকারি হিসাবে সেই সংখ্যা অনেক কম বলে প্রমাণিত হয়েছে।
কারাচা আরও জানান, দেশের নয়টি মহানগরে পথকুকুর সংগ্রহ কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে আরও ১০ থেকে ১১টি মহানগরে এই কার্যক্রম নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছাবে বলে সরকার আশা করছে।
রাস্তাঘাট থেকে উদ্ধার করা কুকুরগুলোর ভাগ্যে কী ঘটছে, সে বিষয়েও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে প্রশাসন। উপদেষ্টা জানান, উদ্ধার করা কুকুরগুলোকে প্রথমে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও বন্ধ্যাকরণ করা হচ্ছে। এরপর পুনর্বাসনের মাধ্যমে তাদের সরকারি আশ্রয়কেন্দ্র অথবা সরকার নির্ধারিত ‘প্রাকৃতিক আবাসস্থল’-এ রাখা হচ্ছে।
অনেকের মনেই প্রশ্ন জেগেছে, তবে কি বিপুল সংখ্যক এই কুকুরকে মেরে ফেলা হচ্ছে? এই প্রসঙ্গে কারাচা বলেন, কেবল ৫১৯৯ নম্বর প্রাণী সুরক্ষা আইনে নির্ধারিত বিশেষ পরিস্থিতিতেই কুকুরকে ইউথেনেশিয়া বা কষ্টহীন মৃত্যু দেওয়া হয়। আইনে ইউথেনেশিয়ার শর্তগুলো অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে এবং এর বাইরে কোনো আশ্রয়কেন্দ্র বা প্রাকৃতিক আবাসস্থলে কোনো ধরনের ইউথেনেশিয়া কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে না।
তুরস্কে পথকুকুর নিয়ে এই বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০২৪ সালে দেশটির সরকার একটি বিতর্কিত আইন পাস করে, যার আওতায় পৌরসভাগুলোকে পথকুকুর ধরে আশ্রয়কেন্দ্রে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। ক্ষমতাসীন ন্যায় ও উন্নয়ন পার্টি (একেপি) এবং তাদের জোটসঙ্গী জাতীয়তাবাদী আন্দোলন পার্টির (এমএইচপি) সমর্থনে পাস হওয়া ওই আইনে বিপজ্জনক, মরণাপন্ন কিংবা দত্তক নেওয়ার অনুপযুক্ত কুকুরকে ইউথেনেশিয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
তবে সরকারের এই পদক্ষেপকে সহজভাবে নেয়নি বিরোধী শিবির। প্রাণী অধিকার সংগঠনগুলো এবং দেশের প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টি (সিএইচপি) এই আইনকে সরাসরি ‘গণহত্যার আইন’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
তাদের অভিযোগ, তুরস্কে পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র ও কার্যকর তদারকি ব্যবস্থা নেই। ফলে এই আইনটি মানসিকভাবে বা মানবিকভাবে বাস্তবায়ন করা অসম্ভব এবং এর আড়ালে ব্যাপকহারে পথকুকুর হত্যা করা হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
এদিকে, এই সমস্যার পেছনে নাগরিকদের অসচেতনতাকেও দায়ী করেছেন আহমেত ইয়াভুজ কারাচা। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের অনেক মানুষ প্রথমে শখ করে কুকুর দত্তক নেন, কিন্তু পরবর্তীতে আবার সেগুলো রাস্তায় ছেড়ে দেন। এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের কারণে পথকুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়ে।
তাই এই ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে আগামীতে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। সূত্র: টার্কিশ মিনিট
দেশবার্তা/একে