২০২৬ বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের পথচলাটা যেন কোনো এক রূপকথার গল্প। স্পেন ও উরুগুয়ের মতো দুই সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন সমৃদ্ধ কঠিন গ্রুপ থেকে রানার্সআপ হয়ে শেষ বত্রিশে জায়গা করে নিয়েছে আফ্রিকার ছোট্ট এই দ্বীপরাষ্ট্র। তবে তাদের স্বপ্ন এখানেই থমকে নেই। এবার লক্ষ্য বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ফুটবলের পাতায় আরও বড় এক ইতিহাস লেখা।
আগামী ৪ জুলাই বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে লিওনেল মেসিদের মুখোমুখি হবে কেপ ভার্দে। প্রায় পাঁচ লাখ জনসংখ্যার দেশটির ফুটবল ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় ম্যাচ। তবে হাই-ভোল্টেজ এই ম্যাচকে ঘিরে ভয় বা চাপের কোনো ছাপ নেই দলটির শিবিরে; বরং আত্মবিশ্বাসে ভরপুর দেশটির প্রেসিডেন্ট হোসে মারিয়া নেভেস।
শুধু তাই নয়, বড় এক দাবি করে তিনি বলেন, ‘আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আমাদের জয়ের সম্ভাবনা শতভাগ। ছোট একটি দেশ হিসেবে কেপ ভার্দের কাজই হলো বারবার সবাইকে চমকে দেওয়া।’
তবে মাঠে আর্জেন্টিনাকে হারানোর স্বপ্ন দেখলেও, লিওনেল মেসির প্রতি নিজেদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করতে ভোলেনি কেপ ভার্দে। ম্যাচের আগে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন মেসির হাতে তুলে দেবে একটি বিশেষ স্মারক জার্সি। সেখানে খোদাই করা থাকবে তাঁর নাম এবং বিখ্যাত ১০ নম্বর।
মেসিকে নিয়ে নেভেস বলেন, ‘লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের বিপক্ষে খেলতে পারাটা আমাদের জন্য বিশাল সম্মানের। কেপ ভার্দের মানুষের কাছে মেসি শুধু একজন ফুটবলার নন, তিনি এক অনুপ্রেরণার নাম। বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের একজনের বিপক্ষে মাঠে নামতে পারাটাই আমাদের জন্য গর্বের।’
১৯৭৫ সালে পর্তুগালের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে ধীরে ধীরে নিজেদের পরিচিতি তৈরি করেছে কেপ ভার্দে। নিজেদের অভিষেক বিশ্বকাপেই শেষ বত্রিশে উঠে ইতোমধ্যেই দেশের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাফল্য এনে দিয়েছে তারা। তবে প্রেসিডেন্ট নেভেসের ভাষায়, তাদের যাত্রা এখনই শেষ হওয়ার নয়।
তিনি বলেন, ‘আমরা এই বিশ্বকাপে এসেছি নিজেদের ভাগ্য নিজেরা লিখতে। চ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি হওয়াই ছিল আমাদের নিয়তি। তাই আর্জেন্টিনা ও মেসির বিপক্ষেও আমরা একই দৃঢ়তা, একই মানসিকতা এবং জয়ের বিশ্বাস নিয়েই মাঠে নামব। আমাদের লক্ষ্য শেষ ষোলোতে ওঠা।’
রূপকথার এই যাত্রায় কেপ ভার্দে ইতোমধ্যেই বিশ্বকে চমকে দিয়েছে। এবার তাদের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। মেসির প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা রেখেও মাঠে জয়ের বিশ্বাসে অটল আফ্রিকার ‘ব্লু শার্কস’রা। এখন দেখার বিষয়, সেই আত্মবিশ্বাস নতুন কোনো ইতিহাস লিখতে পারে কি না।
দেশবার্তা/একে