ই-পেপার |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  মঙ্গলবার | ২৮ জুলাই ২০২৬ | ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ 

সর্বশেষ আপডেট: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১৯:৫৪
চলমান বার্তা:
দুই দিনে শতাধিক শ্রমিক হাসপাতালে ভর্তি, কর্তৃপক্ষ বলছে জ্বিনের আছর
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ১৪:৪২  (ভিজিটর : )

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার টেপিরবাড়ি এলাকায় অবস্থিত কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড পোশাক কারখানায় রহস্যজনক গণঅসুস্থতার ঘটনা দ্বিতীয় দিনেও অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার অন্তত ৭০ জন শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার পর বুধবার (৮ জুলাই) সকালেও একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩৫ জন শ্রমিক হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। মঙ্গলবার গুরুতর অসুস্থ ৭ জনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। দুই দিনে শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়ায় কারখানাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি প্রশাসন বা চিকিৎসকরা।

এদিকে কারখানা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের ওপর ‘জ্বিনের আছর’ হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সেই বিশ্বাস থেকে কারখানায় কয়েকটি মসজিদের ইমাম এনে দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করা হয়েছে। অন্যদিকে শ্রমিকরা কুসংস্কারের পরিবর্তে ঘটনার বৈজ্ঞানিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

কারখানার জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) সঞ্জীব বলেন, বুধবার সকাল থেকে উৎপাদন শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরই আবার শ্রমিকরা অসুস্থ হতে থাকেন। তাদের ধারণা, এটি ‘জ্বিনের আছর’ হতে পারে। সে কারণেই কয়েকজন ইমাম এনে দোয়া পড়ানো হয়েছে।

তবে শিল্প পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, বুধবার সকাল থেকেই একের পর এক শ্রমিক বুকে ব্যথা, মাথা ঘোরা, পেটে ব্যথা ও বমি বমি ভাবের মতো উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসতে থাকেন।

মাওনা চৌরাস্তার আল-হেরা হাসপাতাল সূত্র জানায়, বুধবার সকাল পর্যন্ত অন্তত ৩৫ জন শ্রমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

কারখানার সুইং অপারেটর মো. হাবিব বলেন, ‘আজও ৩০ থেকে ৪০ জন শ্রমিক হঠাৎ অসুস্থ হয়েছেন। তাদের বুকে ব্যথা, মাথা ঘোরা ও বমি বমি ভাব দেখা দিয়েছে।’

এর আগে মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে কারখানার পঞ্চম তলায় প্রথমে এক নারী শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন বিভাগের আরও শ্রমিক আক্রান্ত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেদিন কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয় এবং অন্তত ৭০ জন শ্রমিককে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শ্রমিকদের অভিযোগ, গত ২৪ জুন কারখানার শ্রমিক লিজা আক্তারের মৃত্যুর পর থেকেই কর্মপরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। ওই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে বিক্ষোভও হয়েছিল। এর মধ্যেই টানা দুই দিনের গণঅসুস্থতা নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

শ্রমিক আশিক নুর বলেন, ‘একজন শ্রমিকের মৃত্যুর পরও আমরা নিরাপদ কর্মপরিবেশ পাইনি। এখন আবার একের পর এক শ্রমিক অসুস্থ হচ্ছে। আমরা প্রকৃত কারণ জানতে চাই।’

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা কার্যক্রম তদারকিতে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম আল-হেরা হাসপাতালে অবস্থান করছেন। তিনি জানান, পর্যবেক্ষণ শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুর আলম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। শ্রমিকরা কী কারণে অসুস্থ হচ্ছেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পরপর একজন শ্রমিকের মৃত্যু এবং দুই দিনে শতাধিক শ্রমিকের রহস্যজনক অসুস্থতার ঘটনায় শ্রমিক, স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনায় কুসংস্কার বা অনুমানের ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়। কর্মপরিবেশ, কারখানার বায়ুর মান, সম্ভাব্য রাসায়নিক পদার্থের প্রভাব, খাদ্য ও পানির মানসহ সব দিক বৈজ্ঞানিকভাবে পরীক্ষা করে প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

শ্রমিকদেরও দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।

প্রতিনিধি/আরএইচ
মতামত লিখুন:
আরও পড়ুন 
Loading...
Loading...
দেশবার্তা    বিজ্ঞাপন    সার্কুলেশন    শর্তাবলি ও নীতিমালা    গোপনীয়তা নীতি    যোগাযোগ   
স্বত্ব © ২০২৬ দেশ বার্তা | সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।