ই-পেপার |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  মঙ্গলবার | ১৪ জুলাই ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ 

সর্বশেষ আপডেট: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ২০:১৪
চলমান বার্তা:
ব্যবসার ব্যয় কমাতে শুল্কায়ন প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি
চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ১৭:৪৩ আপডেট: ১৩.০৭.২০২৬ ১৭:৪৬  (ভিজিটর : )
চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক। ছবি: সংগৃহীত

শুল্কায়ন প্রক্রিয়া সহজ করে দ্রুত পণ্য খালাস নিশ্চিত ও ব্যবসার পরিচালন ব্যয় হ্রাস করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক। 

রোববার অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি এই প্রস্তাব ও দাবিগুলো তুলে ধরেন।

চিঠিতে চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রামের বাসায় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, কাস্টমস ও বন্দর প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় ব্যবসা পরিচালন সহজীকরণ ও ব্যয় হ্রাসকল্পে চারদিনের মধ্যে পণ্য শুল্কায়ন সম্পন্ন ও বন্দর থেকে খালাসের নির্দেশনা প্রদান করেছিলেন। পাশাপাশি বন্দরের কার্যক্রমে গতিশীলতা আনা এবং জাহাজ ও পণ্যজট হ্রাসের লক্ষ্যে বন্দরের অচল স্ক্যানার মেশিনগুলো সচল করাসহ আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন। 

কিন্তু অর্থমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও এখনো ক্ষেত্রবিশেষে কাস্টমস কর্মকর্তাদের অসহযোগিতা, সদিচ্ছার অভাব, প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা ও অকারণ দীর্ঘসূত্রিতার কারণে দ্রুত সময়ে পণ্য খালাস প্রক্রিয়া কাঙ্ক্ষিত গতিশীলতা পাচ্ছে না। ফলে দেশীয় ব্যবসায়ীদের কাঁধে কাস্টমস ও বন্দরের বিশাল জরিমানার বোঝা নিপতিত হয়ে ব্যবসা পরিচালন ব্যয় অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দেশীয় পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে।

চিঠিতে চেম্বার সভাপতি আরও উল্লেখ করেন, এখনো বিভিন্ন সংস্থা কর্তৃক একই পণ্যের বারবার পরীক্ষা করা, কনটেইনার স্ক্যানিং করার পরেও গোপন সংবাদের দোহাই দিয়ে পুনরায় কায়িক পরীক্ষা করা হচ্ছে। এছাড়া স্থানীয় রাসায়নিক পরীক্ষার সুযোগের সীমাবদ্ধতার অজুহাতে ল্যাব টেস্টের নামে নমুনা ঢাকায় প্রেরণ, বর্তমানে আন্তর্জাতিকভাবে চলমান ও স্বীকৃত ই-সিও দেওয়া সত্ত্বেও সিও সিগনেটরির সিগনেচার যাচাই করার নামে দিনের পর দিন পণ্য শুল্কায়নে বিলম্ব করা হচ্ছে। কনটেইনার আনস্টাফিংয়ের সময় অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেকিং এবং বাধ্যতামূলক নয় এমন অনেক পণ্য বিএসটিআই টেস্টের জন্য প্রেরণসহ নানা অকারণ জটিলতা সৃষ্টির ফলে ক্ষেত্রবিশেষে ৭-৮ দিন বা তারও বেশি সময় লেগে যাচ্ছে।

অধিকতর উদ্বেগের বিষয় হলো, একই পণ্যের বিভিন্ন সংস্থা কর্তৃক বারবার কায়িক পরীক্ষার ফলে যেকোনো দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মাঝেও পণ্য আনস্টাফিং করা হয় বলে পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে এসব পণ্য বাজারে বিক্রির মতো অবস্থায় থাকে না, যার কারণে আমদানিকারকেরা প্রচুর আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। আমদানিকৃত পণ্যের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য নির্ধারণে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিদ্যমান বিধি অনুসরণ না করে লোডিং দিয়ে শুল্কায়ন করা হচ্ছে। এতে প্রকৃতপক্ষে পণ্য খালাস ব্যবস্থাকে আরও জটিল ও সময়সাপেক্ষ করে তোলা হচ্ছে, যা ব্যবসা সহজীকরণের পথে অনেক বড় বাধা।

অধিকন্তু, খালাস কার্যক্রম বিলম্বিত হওয়ায় অতিরিক্ত সময়ের মাশুল প্রদান, বিভিন্ন টেস্ট ও ডকুমেন্টের জন্য অতিরিক্ত খরচ পণ্যের মূল্যের সাথে যুক্ত হয়ে ব্যবসা পরিচালনার খরচ এবং পণ্যের মূল্য উভয়ই বৃদ্ধি করছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ডের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কাস্টমস আইন, ২০২৩ ঘোষিত হলেও পেপারলেস কাস্টমস, প্রি–অ্যারাইভাল প্রসেসিং, রিস্ক বেইজড এক্সামিনেশন ইত্যাদি পদ্ধতি অনুসরণের মাধ্যমে দ্রুত কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের যে সুফল, তা থেকে ব্যবসায়ীরা বঞ্চিত হচ্ছেন।

তাই আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে দেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা, আমদানীকৃত পণ্যের শুল্কায়ন প্রক্রিয়া সহজীকরণের মাধ্যমে দ্রুত পণ্য খালাস এবং ব্যবসা পরিচালন ব্যয় হ্রাসের মাধ্যমে দেশীয় পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক ধারা বজায় রাখার লক্ষ্যে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য এনবিআর চেয়ারম্যানের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি। 

প্রতিনিধি/একে
মতামত লিখুন:
আরও পড়ুন 
Loading...
Loading...
দেশবার্তা    বিজ্ঞাপন    সার্কুলেশন    শর্তাবলি ও নীতিমালা    গোপনীয়তা নীতি    যোগাযোগ   
স্বত্ব © ২০২৬ দেশ বার্তা | সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।