ই-পেপার |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  মঙ্গলবার | ২৮ জুলাই ২০২৬ | ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ 

সর্বশেষ আপডেট: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১৯:৫৪
চলমান বার্তা:
রাঙামাটি সদর হাসপাতালে প্রথমবারের মতো চালু হলো কলপোস্কোপি সেবা
রাঙামাটি প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ১৪:৫০  (ভিজিটর : )

রাঙামাটি সদর হাসপাতালের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চালু হয়েছে কলপোস্কোপি সেবা। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. তাহমিনা দেওয়ান অভির তত্ত্বাবধানে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. তাহমিনা দেওয়ান অভি বলেন, যেসব নারীর প্যাপ স্মিয়ার (Pap Smear) বা ভায়া (VIA) পরীক্ষায় কোনো অস্বাভাবিক কোষ বা সমস্যা ধরা পড়ে, তাদের কলপোস্কোপি করা হবে। এছাড়া এইচপিভি (হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস) পরীক্ষায় পজিটিভ ফলাফল এলে, জরায়ুমুখে দীর্ঘদিন ধরে সংক্রমণ বা ক্ষত থাকলে কিংবা স্বাভাবিক পেলভিক পরীক্ষার সময় চিকিৎসকের কাছে জরায়ুমুখে কোনো অস্বাভাবিকতা সন্দেহ হলে কলপোস্কোপি করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, কলপোস্কোপি হলো জরায়ুমুখ (সারভিক্স), যোনিপথ এবং ভালভা (যোনিমুখ) পরীক্ষা করার একটি বিশেষ চিকিৎসাপদ্ধতি। প্যাপ স্মিয়ার বা এইচপিভি পরীক্ষায় অস্বাভাবিক ফলাফল পাওয়া গেলে জরায়ুমুখের ক্যান্সার-পূর্ববর্তী কোষ বা অন্যান্য সমস্যা শনাক্ত করতে 'কলপোস্কোপ' নামের একটি বিশেষ ম্যাগনিফাইং যন্ত্রের মাধ্যমে এই পরীক্ষা করা হয়।

কলপোস্কোপির গুরুত্ব সম্পর্কে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা জানান, জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয়ে এ পরীক্ষা অত্যন্ত কার্যকর। এর মাধ্যমে জরায়ুমুখ (সারভিক্স), যোনিপথ এবং ভালভা পরীক্ষা করা হয়। প্যাপ স্মিয়ার বা এইচপিভি পরীক্ষার ফলাফল অস্বাভাবিক এলে এই পরীক্ষা করা হয়। এর সাহায্যে জরায়ুমুখের ক্যান্সার, ক্যান্সার-পূর্ববর্তী কোষের পরিবর্তন, পলিপ, যোনাঙ্গের আঁচিল (জেনিটাল ওয়ার্টস) এবং জরায়ুমুখের প্রদাহ (সার্ভিসাইটিস) শনাক্ত করা সম্ভব। বিশেষ করে অস্বাভাবিক রক্তপাত, পলিপ বা আঁচিলের মতো সমস্যার কারণ নির্ণয়ে এ পরীক্ষা অত্যন্ত কার্যকর।

রাঙামাটির সিভিল সার্জন ডা. নূয়েন খীসা বলেন, রাঙামাটি সদর হাসপাতালের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কলপোস্কোপি সেবা চালু হয়েছে। সরকারের চিকিৎসানির্ভর স্বাস্থ্যব্যবস্থা থেকে প্রতিরোধনির্ভর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এ সেবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এখন থেকে রাঙামাটি সদর হাসপাতালে নিয়মিতভাবে জরায়ুমুখ, যোনিপথ ও ভালভার অস্বাভাবিক কোষ পরীক্ষা করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে এটি একটি জীবনরক্ষাকারী উদ্যোগ।

সিভিল সার্জন আরও বলেন, সীমিত সম্পদ ও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নতুন নতুন স্বাস্থ্যসেবা চালুর জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, "আমাদের ওপর আস্থা রাখুন। সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যসেবা দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভবিষ্যতেও মানুষের কল্যাণে আরও উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে আমরা নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব।"

প্রতিনিধি/আরএইচ
মতামত লিখুন:
আরও পড়ুন 
Loading...
Loading...
দেশবার্তা    বিজ্ঞাপন    সার্কুলেশন    শর্তাবলি ও নীতিমালা    গোপনীয়তা নীতি    যোগাযোগ   
স্বত্ব © ২০২৬ দেশ বার্তা | সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।