বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প আজ দেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এই শিল্পকে কেন্দ্র করেই দেশ ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার রাজধানীর হোটেল লে মেরিডিয়ানে বাংলাদেশ অ্যাপারেল জেনারেল ম্যানেজারস অ্যাসোসিয়েশন (বাগমা) আয়োজিত ‘বাগমা অ্যানুয়াল প্রোগ্রাম-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘আরএমজি ৩৬০ ডিগ্রি: চ্যালেঞ্জ অ্যান্ড অপরচুনিটি’।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে শ্রমঘন শিল্প হিসেবে তৈরি পোশাক খাতের যাত্রা শুরু হয়েছিল বহু মানুষের কর্মসংস্থানের লক্ষ্য নিয়ে। আজ সেই পোশাক শিল্পই দেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় শক্তি। এই খাতের অগ্রগতিই বলে দেয়, এর ওপর ভর করে বাংলাদেশ আরও সামনে এগিয়ে যেতে সক্ষম।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি রাজনীতির মানুষ, ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল না। তবে প্রায় ২০ কোটি মানুষের দেশে জ্বালানি সংকটসহ নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শিল্প পরিচালনা করা বড় চ্যালেঞ্জ। এরপরও দেশের মানুষের উদ্ভাবনী ক্ষমতা ও কঠোর পরিশ্রমের মানসিকতাই শিল্প খাতকে এগিয়ে নিচ্ছে। এই উদ্ভাবনী শক্তির কারণেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শ্রমনির্ভর শিল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
দেশের অর্থনীতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিগত বছরগুলোতে বিপুল পরিমাণ সম্পদ বিদেশে পাচার হওয়ায় অর্থনীতি বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। এই ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করা এখন সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সেই পুনর্গঠনের কাজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে পাস হওয়া বাজেটে সৃজনশীল অর্থনীতিসহ নতুন নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিকে নতুনভাবে ভাবার সুযোগ সৃষ্টি করবে।
কৃষি খাতের উদাহরণ তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, স্বাধীনতার সময় দেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে সাত কোটি এবং খাদ্য ঘাটতি ছিল প্রায় ২৮ লাখ মেট্রিক টন। বর্তমানে জনসংখ্যা প্রায় ২০ কোটিতে পৌঁছালেও কৃষক, কৃষিবিজ্ঞানী ও প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে খাদ্য ঘাটতি প্রায় নেই বললেই চলে। এই সাফল্য দেশের মানুষের উদ্ভাবনী শক্তিরই প্রমাণ। তৈরি পোশাক খাতের কারিগরি ও ব্যবসায়িক নানা বিষয় তাঁর খুব বেশি পরিচিত না হলেও, দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে এই শিল্পের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, বিজিবিএ সভাপতি মো. আব্দুল হামিদ পিন্টু, বিজিএমইএর প্রতিনিধিত্বকারী ইমপ্রেস নিউটেক্সের পরিচালক নাসির উদদৌলা, বিদেশি কূটনীতিক এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় পোশাক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে পোশাক খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জ, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা, টেকসই প্রবৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
দেশবার্তা/একে