ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে যাত্রীবাহী ট্রেনের সঙ্গে স্কুলভ্যানের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচজনে দাঁড়িয়েছে। এর আগে ঘটনাস্থলেই তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছিল। পরে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়।
নিহত ওই দুই শিক্ষার্থী হলো ইসানূর রহমান (৫) ও তামান্না পারভিন (৭)। এ ঘটনায় আরও পাঁচ শিক্ষার্থী গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে মুর্শিদাবাদের বহরমপুর থানা এলাকার কর্ণসুবর্ণ ও গোবিন্দপুর রেলওয়ে স্টেশনের মধ্যবর্তী একটি লেভেল ক্রসিংয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, একটি ট্রেন চলে যাওয়ার পর রেলক্রসিংয়ের গেট খুলে দেওয়া হয়। এ সময় স্কুলভ্যানটি লাইন পার হতে গেলে নিমতিতা-কাটোয়াগামী আরেকটি যাত্রীবাহী লোকাল ট্রেন এসে সেটিকে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় ভ্যানটি দুমড়ে-মুচড়ে রেললাইনের ওপর ছিটকে পড়ে।
এক রেল কর্মকর্তা জানান, কাটোয়া থেকে প্রায় ৪৮ কিলোমিটার দূরে কর্ণসুবর্ণ স্টেশনের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ঊর্ধ্বতন পুলিশ ও রেল কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এদিকে কর্ণসুবর্ণ রেলক্রসিংয়ে গেটম্যানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় ইতিমধ্যেই দায়িত্বে থাকা গেটম্যান ও একজন সুপারভাইজারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরীও এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার জন্য গেটম্যানের অবহেলাকেই দায়ী করেছেন।
গেটম্যানের অবহেলার অভিযোগসহ দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ইতিমধ্যেই আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
দেশবার্তা/একে