দেশের তিনটি নদীর চারটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগসহ ভারতের আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় দেশের কয়েকটি অঞ্চলে চলমান বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)।
সোমবার (২০ জুলাই) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।
বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) ও মারকুলি (সুনামগঞ্জ), সুরমা নদীর ছাতক (সুনামগঞ্জ) এবং সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এফএফডব্লিউসি জানিয়েছে, আগামী দুই দিন তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও আকস্মিক বা স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।
গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা নদীর পানি বাড়লেও কুশিয়ারার পানি কিছুটা কমেছে। তবে আগামী তিন দিন উভয় নদীর পানি আবারও বাড়তে পারে বলে জানানো হয়েছে। ফলে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জের কিছু এলাকায় নতুন করে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে বন্যাকবলিত এলাকার পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে।
এছাড়া সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, জিঞ্জিরাম, সোমেশ্বরী, ভুগাই ও কংস নদীর পানিও ঊর্ধ্বমুখী। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে নদীগুলোর পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়ে স্বল্পমেয়াদি প্লাবন বা বিদ্যমান পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে।
অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও পদ্মার পানি আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী পাঁচ দিন পানি বৃদ্ধির এ ধারা বজায় থাকলে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে।
উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলোর মধ্যে আপার করতোয়া, আপার আত্রাই, টাঙ্গন, পুনর্ভবা, মহানন্দা, যমুনেশ্বরী, আত্রাই ও ঘাঘট নদীর পানি বাড়ছে। এতে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নওগাঁ ও নাটোর জেলার কিছু এলাকায় নদীগুলো সতর্কসীমায় পৌঁছে আশপাশের এলাকা প্লাবিত করতে পারে।
এদিকে চট্টগ্রাম বিভাগের সাঙ্গু, হালদা ও মাতামুহুরী নদীর পানিও আগামী তিন দিনে দ্রুত বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।
দেশবার্তা/একে