উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে সংঘটিত মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনার এক বছর পূর্তিতে নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি ড. জুবাইদা রহমান বলেছেন, এই ট্র্যাজেডির পর শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাহস, মানবিকতা এবং আত্মত্যাগের যে অনন্য দৃষ্টান্ত দেশ প্রত্যক্ষ করেছে, তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারির অডিটোরিয়ামে মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে নিহতদের স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘এই কঠিন সময়ে দেশ ও বিশ্ব সাহস, সহানুভূতি ও ত্যাগের যে বিরল উদাহরণ দেখেছে, তা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। মানুষের জন্য মানুষ হয়ে এগিয়ে আসার মধ্যেই মানবতার প্রকৃত সৌন্দর্য নিহিত।’
তিনি বলেন, ২০২৫ সালের এই দিনে উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ২৮ জন শিক্ষার্থীসহ মোট ৩৬ জন প্রাণ হারান। এই আকস্মিক দুর্ঘটনা পুরো জাতিকে শোকাহত করেছিল এবং যারা স্বজন হারিয়েছেন, তাদের বেদনার অংশীদার হয়েছে সমগ্র দেশ।
আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে ড. জুবাইদা বলেন, শোককে শক্তিতে পরিণত করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ভয়াবহ দুর্ঘটনার পরও আহত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা যে দৃঢ় মনোবল ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তা জাতির জন্য এক অনন্য প্রেরণা। জীবনের যেকোনো সংকটে তাদের এই দৃঢ়তা অন্যদেরও সাহস জোগাবে। মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি শুধু একটি দুর্ঘটনার স্মৃতি নয়, বরং মানবতা, সহমর্মিতা ও সাহসের এক অনন্য অধ্যায়, যা জাতিকে দীর্ঘদিন অনুপ্রাণিত করবে।
সংকটময় মুহূর্তে উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য ফায়ার সার্ভিস, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব), জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন বন্ধু দেশের সহায়তার প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
দেশবার্তা/এমআর