প্রায় এক যুগ আগে রাজধানীর মতিঝিলে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে ‘গণহত্যা’ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন।
সোমবার (২৭ জুলাই) বেলা পৌনে ১১টার দিকে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কাছে এই অভিযোগ জমা দেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন ও প্রসিকিউটর মার্জিনা রায়হান। ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে আজই এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও অভিযোগ তালিকায় আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা, সাবেক মন্ত্রী, পুলিশের সাবেক ও বর্তমান ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সাবেক সেনাসদস্য, সাংবাদিক এবং গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠকদের নাম রয়েছে।
অভিযোগপত্রভুক্ত ৪১ আসামির মধ্যে বর্তমানে ৯ জন গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন- সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, সাবেক ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম, সাংবাদিক মোজাম্মেল হক বাবু ও ফারজানা রুপা।
অভিযুক্ত আসামিদের তালিকা- সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, তৎকালীন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ, গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, ৭১ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু, সাংবাদিক ফারজানা রুপা, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক, সাবেক আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, তৎকালীন র্যাব মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, তৎকালীন র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমান, সাবেক ডিআইজি আব্দুল জলিল মণ্ডল, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি শেখ মুহাম্মাদ মারুফ হাসান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মাহবুব হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মনিরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) মো. আনোয়ার হোসেন, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (ট্রাফিক-দক্ষিণ) আশরাফুজ্জামান, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল জোন) এসএম মেহেদী হাসান, সাবেক ডিআইজি হারুন-অর-রশীদ, সাবেক ডিআইজি বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক ডিআইজি সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল বিভাগ) মো. আসাদুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম শিবলী নোমান এবং তৎকালীন মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিএম ফরমান আলী।
প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থার তথ্যমতে, ২০১৩ সালের ৫ মে ১৩ দফা দাবিতে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে অবস্থান নিয়েছিল হেফাজতে ইসলাম। সেদিন গভীর রাতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত অভিযান চালানো হয়।
তদন্ত সংস্থা এখন পর্যন্ত ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় অভিযান চলাকালে মোট ৫৮ জন নিহতের পরিচয় শনাক্ত করেছে। এর মধ্যে শুধু ঢাকাতেই নিহত হন ৩২ জন। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জে ২০ জন, চট্টগ্রামে ৫ জন এবং কুমিল্লায় ১ জনের মৃত্যুর তথ্য মিলেছে।
গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শাপলা চত্বরের এই ঘটনায় বিচার প্রক্রিয়া নতুন করে শুরু হয়।
দেশবার্তা/একে