গরুর গোশত, ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম স্থিতিশীল থাকলেও নরসিংদীর বাজারগুলোতে অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে মাছ ও সবজির দাম। টানা বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে সবজির জেলা হিসেবে পরিচিত নরসিংদীতেও প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। অতিবৃষ্টিতে মাঠের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমে গেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
সোমবার (২৭ জুলাই) নরসিংদীর মাধবদী হাটসহ জেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত কয়েক দিনে অধিকাংশ সবজির দাম কেজিতে ২৫ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। বাড়তি দামের কারণে অনেকে প্রয়োজনীয় সবজি কিনতে পারছেন না, আবার কেউ প্রয়োজনের তুলনায় কম কিনে বাড়ি ফিরছেন।
টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার প্রভাবে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কাঁচা মরিচ, বেগুন ও মাছের দাম। কাঁচা মরিচের কেজি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কয়েক দিনের ব্যবধানে এর দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ‘ত্রিপল সেঞ্চুরিতে’ পৌঁছেছে। সাধারণ বেগুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৬০ টাকায়।
এক সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন ধরনের মাছের দামও কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, টানা বৃষ্টি, বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা এবং সরবরাহ কমে যাওয়ায় পাইকারি বাজারেই দাম বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে।
বর্তমানে লম্বা বেগুন ১৩০ টাকা, গোল বেগুন ১৬০ টাকা, করলা ১০০ থেকে ১২০ টাকা, পটোল ও ঢেঁড়স ৮০ থেকে ৯০ টাকা, ঝিঙা ৯০ থেকে ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ থেকে ৯০ টাকা এবং শসা ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। লাউ বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা, গাজর ১৬০ টাকা এবং টমেটো ১২০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি। প্রায় সব ধরনের শাকের দামও বেড়েছে। লাল শাকের আঁটি ২৫ থেকে ৩০ টাকা, লাউ শাক ৫০ টাকা, কলমি শাক দুই আঁটি ৫০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা এবং ডাঁটা শাক দুই আঁটি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাধবদী কাঁচাবাজারের সবজি ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, “অতিরিক্ত বৃষ্টিতে মাঠের সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। সরবরাহ কম থাকায় পাইকারি বাজারেই দাম বেশি। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দাম কমার সম্ভাবনা নেই।”
মাছের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী দাম। মানভেদে চিংড়ি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, বড় রুই ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, ট্যাংরা ৬০০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা, পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছ ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং মাঝারি আকারের রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে রূপচাঁদা, শোলের বড় আকারের মাছ ও নদীর বেলে মাছ কিনতে কেজিপ্রতি এক হাজার টাকার বেশি গুনতে হচ্ছে।
নরসিংদী এমপি বাজারের মাছ বিক্রেতারা জানান, জলাবদ্ধতার কারণে মাছ ধরা কমে গেছে এবং আড়তে সরবরাহ কম থাকায় আগের চেয়ে বেশি দামে মাছ কিনতে হচ্ছে। তাই খুচরা বাজারেও দাম বাড়াতে হচ্ছে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দামও কমবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
ক্রেতা ওসমান গনি বলেন, “মাছের দাম ক্রমাগত বাড়ছে। সীমিত আয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে গেছে। আগে যে টাকায় কয়েক দিনের বাজার করা যেত, এখন তা দিয়ে এক দিনের প্রয়োজনও মেটে না।”
একই বাজারের ক্রেতা গৃহবধূ ইয়াসমিন আক্তার বুশরা বলেন, “গোশতের দাম অন্তত স্থির আছে, কিন্তু মাছের বাজারে এলেই নতুন দাম শুনতে হয়। বাধ্য হয়ে প্রয়োজনের তুলনায় কম মাছ কিনে ফিরতে হচ্ছে।”
এদিকে গত সপ্তাহের তুলনায় ডিমের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। ফার্মের ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকায়। গরুর গোশত কেজিপ্রতি ৮০০ টাকা, খাসির গোশত ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাধবদী বাজারে আসা ক্রেতা বাবুল মিয়া বলেন, “নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের জন্য এখন বাজার করা খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। হঠাৎ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এভাবে বেড়ে যাওয়ায় আমাদের মতো সাধারণ মানুষের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।”
প্রতিনিধি/আরএইচ