পার্বত্য চট্টগ্রামে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ২৪০টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি)। সংগঠনটির দাবি, এসব ঘটনার মধ্যে ৪৭টি অপহরণ ও ১৬টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা রয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে রাঙামাটি শহরের বনরূপার পার্বত্য জ্ঞান অন্বেষণ পাঠাগারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরে পিসিএনপি।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির রাঙামাটি জেলা সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এতে বলা হয়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র সংগঠন জেএসএস, ইউপিডিএফ (প্রসীত) ও কেএনএফের কর্মকাণ্ডের কারণে এসব মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ী, কৃষক, চালক, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, এ সময়ে ৭০ জনের বেশি অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু-কিশোরকে জোরপূর্বক সশস্ত্র কর্মকাণ্ড ও দলীয় কাজে যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৪ জন নারী অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে সংগঠনটির দাবি।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, পাহাড়ি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর আয়ের প্রধান উৎস চাঁদাবাজি। গত এক বছরে এক হাজার ৫২০টির বেশি চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেছে। কাঠ ব্যবসায়ী, ওষুধ কোম্পানি, স্থানীয় পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাঁদা এবং মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগও করা হয়।
পিসিএনপির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ভূমি দখলের চারটি ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গত ২৭ থেকে ৩০ মে খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে ইউপিডিএফ (প্রসীত)–এর সদস্যরা প্রায় ২০ একর জমি দখল করে ঘর নির্মাণ করেছে বলে অভিযোগ করা হয়।
এছাড়া ২৩ মার্চ বান্দরবানের লামায় ‘জঙ্গল বিলাস’ নামের একটি রিসোর্টে হামলা চালিয়ে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে আরও অভিযোগ করা হয়, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো আন্তর্জাতিক সহানুভূতি ও অর্থায়ন পেতে ‘জুম্মল্যান্ড’ প্রতিষ্ঠার বয়ান প্রচার করছে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধ অস্ত্র ও মাদক পাচার এবং পাহাড়ি তরুণদের সংঘাতে জড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পিসিএনপির নেতারা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠায় শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষার উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। এর পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ, ভূমিবিরোধের ন্যায়সংগত নিষ্পত্তি এবং সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে পিসিএনপির রাঙামাটি জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির সভাপতিত্ব করেন। সঞ্চালনা করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের (পিসিসিপি) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. হাবীব আজম।
এতে পার্বত্য চট্টগ্রাম মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মোরশেদা আক্তার, পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূর হোসেন, রাঙামাটি জেলা সভাপতি হিরো তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক নূর ইসলাম, পিসিসিপির রাঙামাটি জেলা সভাপতি তাজুল ইসলাম তাজ, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিনিধি/একে