অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদ আগেই কাঁটাতার ডিঙিয়ে ভারতের সিনেমায় নিজের নাম লিখিয়েছেন। সত্যজিৎ রায়ের বিখ্যাত গোয়েন্দা চরিত্র ফেলুদাকে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানিয়ে নির্মিত ‘যত কাণ্ড কলকাতাতেই’ চলচ্চিত্রে দেখা গেছে তাঁকে। এবার তিনি আসছেন ওপারের ভিন্নধারার আলোচিত পরিচালক কিউয়ের (কৌশিক মুখোপাধ্যায়) নতুন সিনেমা ‘দেশলাই’-এ।
বাংলাদেশের প্রযোজনা সংস্থা ‘ফুটপ্রিন্ট প্রোডাকশন’-এর মাধ্যমে সিনেমাটিতে যুক্ত হয়েছেন নওশাবা। ব্যতিক্রমী কাজের ধারা ও বিকল্প ধারার গল্প বলার জন্য পরিচিত কিউয়ের সঙ্গে কাজ করে বেশ উচ্ছ্বসিত এই অভিনেত্রী।
পরিচালকের গল্প বলার ধরন নিয়ে নওশাবা বলেন, কিউয়ের সিনেমা একেবারেই ভিন্ন ধরনের। আমরা সাধারণ নিয়মে যেভাবে গল্প বলতে দেখি, তাঁর কাজের ধরণ তার চেয়ে আলাদা। তিনি মানুষের মনের ‘গ্রে ম্যাটেরিয়াল’ বা জটিল মনস্তাত্ত্বিক দিকগুলো নিয়ে বেশি কাজ করেন। ‘দেশলাই’ সিনেমাটির ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে।
সিনেমায় নিজের চরিত্রটি নিয়ে এখনই স্পষ্ট করে কিছু বলতে চাননি তিনি। তবে এটুকু নিশ্চিত করেছেন, এমন লুকে বা চরিত্রে তাঁকে আগে কখনো পর্দায় দেখেননি দর্শক। চরিত্রে এই ভিন্নতাই নাকি প্রজেক্টটিতে যুক্ত হওয়ার মূল কারণ।
নওশাবার ভাষ্য, ছবিটিতে যুক্ত হওয়ার অন্যতম কারণ হলো আমাকে এভাবে ভাবা হয়েছে। প্রতিটি মানুষের ভালো-মন্দের বাইরে একটি ধূসর বা মনস্তাত্ত্বিক দিক থাকে, আমার চরিত্রটিও তেমনই। এ ধরনের ক্যারেক্টার ডিল করা আমার জন্য একেবারেই নতুন অভিজ্ঞতা।
কাজ করতে গিয়ে পরিচালক কিউকেও কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছেন নওশাবা। নির্মাতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, কিউ একদমই ভিন্ন ঘরানার একজন মানুষ। তাঁর চিন্তাধারা, সমাজকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি কিংবা মিউজিক- সবকিছুতেই নতুনত্বে ভরপুর।
‘দেশলাই’ সিনেমাটিকে নির্দিষ্ট কোনো ঘরানা বা জেনারে ফেলতে চান না নওশাবা। তিনি জানান, গল্পটি একেবারেই সমসাময়িক এবং আমাদের আশপাশের চেনা মানুষগুলোকে নিয়ে। সেই মানুষগুলোর ভেতরের প্রেম-ভালোবাসা ও নিরাপত্তাহীনতাকে সমাজ কীভাবে দেখে, তা-ই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এতে।
দুই দেশের কলাকুশলীদের যৌথ প্রচেষ্টায় তৈরি হয়েছে সিনেমাটি। নওশাবা জানান, বাংলাদেশ ও ভারতের বেশ কিছু পরীক্ষামূলক (এক্সপেরিমেন্টাল) শিল্পী এতে কাজ করেছেন, যা এক চমৎকার কোলাবোরেশনের সুযোগ তৈরি করেছে।
কবে দেখা যাবে ‘দেশলাই’? সিনেমাটির মুক্তি প্রসঙ্গে নওশাবা জানান, কাজটি কয়েক বছর আগের এবং ইতোমধ্যে এর যাবতীয় কাজ শেষ হয়েছে। চলতি বছরই ছবিটি মুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মুক্তির চূড়ান্ত তারিখ প্রযোজনা সংস্থাই ভালো বলতে পারবে।
বর্তমানে অন্যান্য কাজ নিয়েও বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন নওশাবা। তাঁর স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘টুগেদার উই ক্যান’-এর সদস্য ক্যামেলিয়া চূড়ার মায়ের ক্যানসার চিকিৎসার তহবিল গঠনে বিভিন্ন শো আয়োজনের চেষ্টা করছেন তিনি। পাশাপাশি সাদাত হাসান মান্টোর গল্প অবলম্বনে নির্মিত ‘ঠাণ্ডা গোশত’ নামের একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের কাজ শেষ করেছেন। সম্প্রতি যার ডাবিংও সম্পন্ন হয়েছে।
নওশাবা জানান, সব মিলিয়ে তাঁর মোট তিনটি সিনেমার ডাবিংয়ের কাজ শেষ হতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে নিয়মিত থিয়েটার করে যাচ্ছেন এবং অপেক্ষা করছেন আরও কিছু চমৎকার চরিত্রের।
দেশবার্তা/একে