ই-পেপার |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  রোববার | ২১ জুন ২০২৬ | ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ 

সর্বশেষ আপডেট: রোববার, ২১ জুন, ২০২৬, ০:১৬
চলমান বার্তা:
চিকিৎসকের জবানবন্দি
জুলাই আন্দোলনে চক্ষুবিজ্ঞানে ভর্তি ৪৯৩ জন চিরতরে হারিয়েছে এক চোখ, ১১ জন দুই চোখই
দেশবার্তা প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৫, ১৬:১৪ আপডেট: ২৬.০৮.২০২৫ ১৩:৩৩  (ভিজিটর : )
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত হয়ে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে ভর্তিদের মধ্যে চিরতরে এক চোখের দৃষ্টি হারিয়েছে ৪৯৩ জন ও দুই চোখের দৃষ্টি হারানো ১১ জন।

সোমবার (২৫ আগস্ট) বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষী হয়ে জবানবন্দি দেন জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ড. জাকিয়া সুলতানা নিলা।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ৮ম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণে এই চিকিৎসক বলেন, ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই থেকে আমাদের হাসপাতালে রোগী আসা শুরু করে। প্রথম দিন ৫ জন রোগী পেয়েছিলাম, যারা মেটালিক পিলেট ও বুলেটবিদ্ধ ছিল। ১৮ জুলাই ছিল রক্তস্নাত এক দিন। সেদিন আনুমানিক ১০০ রোগী ভর্তি হয়েছিল। এর বাইরে আরও শতাধিক রোগীকে ওই দিন চিকিৎসা দেওয়া হয়। 

ওই দিন দুপুরে আমি ইমার্জেন্সির সামনে এসে এক ভয়াবহ চিত্র দেখি। ১৪ থেকে ২৫ বছর বয়সী শতাধিক রোগীর একটা বড় অংশের কেউ এক চোখ, কেউ তাদের রক্তে ভাসা দুচোখ ধরে ছিলেন। তাদের চেহারা রক্তস্নাত ছিল।

জবানবন্দিতে ড. জাকিয়া সুলতানা নিলা বলেন, ১৮ জুলাই ১০টি ওটি টেবিলে রাত ৯টা পর্যন্ত অপারেশন চলে। ১৯ জুলাই একই রকম চিত্র দেখতে পাই। অধিকাংশই মেটালিক পিলেট ও কেউ কেউ বুলেট দ্বারা আহত ছিলেন। আহতের ধরনে ছিল কারো কর্নিয়া ছিদ্র, কারো চোখের সাদা অংশ ছিদ্র কিংবা কারো চোখ ফেটে যাওয়া অবস্থায়।

২০২৪ সালের ৪, ৫, ৬ আগস্ট অনেক বেশি রোগী রিসিভ করেন জানিয়ে এই চিকিৎসক বলেন, আমাদের হাসপাতালে আসা রোগীদের মধ্যে এক চোখে চিরতরে দৃষ্টি হারিয়েছেন এমন রোগীর সংখ্যা ৪৯৩ জন। দুই চোখে চিরতরে দৃষ্টি হারিয়েছেন এমন রোগীর সংখ্যা ১১ জন। দুই চোখে গুরুতর দৃষ্টি স্বল্পতায় ভুগছেন এমন রোগীর সংখ্যা ২৮ জন। আর এক চোখে গুরুতর দৃষ্টি স্বল্পতায় ভুগছেন এমন রোগীর সংখ্যা ৪৭ জন।

অধিকাংশ রোগী নিজেদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ওই সময় নিজের ডাক নাম ব্যবহার করেছেন জানিয়ে এই চিকিৎসক বলেন, রোগীরা তাদের ভুল মোবাইল নম্বর ও আইডি কারর্ডে নম্বর দিত না নিরাপত্তার কথা ভেবে।

এদিন ট্র‍াইব্যুনালে প্রসিকিউটশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এস এইচ তামিম। এ সময় অপর প্রসিকিউটররা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে এই মামলায় পলাতক শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে জেরায় ছিলেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন। এই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন আজ সাক্ষ্য গ্রহণের সময় কাঠগড়ায় হাজির ছিলেন। তার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ।

মতামত লিখুন:
আরও পড়ুন 
https://thedailydeshbarta.com/ad/1781938701_RightPanelSquare.jpg
Loading...
Loading...
দেশবার্তা    বিজ্ঞাপন    সার্কুলেশন    শর্তাবলি ও নীতিমালা    গোপনীয়তা নীতি    যোগাযোগ   
স্বত্ব © ২০২৬ দেশ বার্তা | সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।