বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রাষ্ট্রকে অনেক রক্তের বিনিময়ে একটি ট্র্যাকে উঠানো হয়েছে। এখন সাংবিধানিক আইনি কাঠামোয় রূপ দেওয়া প্রয়োজন। জনগণ ও ’২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের অভিপ্রায় হলো জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।
শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর গুলশানে আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ: জনসাধারণের চিন্তা ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জাতীয় প্রশ্নে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন। সেই সুযোগ দিয়েছে জুলাই আন্দোলন। নানাবিধ মতভেদ থাকলেও এই শক্তি সমুন্নত রাখতে হবে। গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশার সাথে মিল রেখে গণতান্ত্রিক রাজনীতির সংস্কৃতির পরিবর্তন করতে হব। সেই সমস্ত সাংস্কৃতির চর্চার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ফ্যসিবাদি রাজনৈতিক অপসংস্কৃতির যেনো বিলুপ্ত হয়, সেই চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।
যারা এখনই সকল সংস্কার বাস্তবায়ন চায় তাদের ভিন্ন উদ্দেশ্য থাকতে পারে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রকে প্রকৃত গণতন্ত্রে রূপান্তরের লক্ষ্যে নির্বাচিত সরকার, সংসদ প্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন দরকার। দলগুলোর ভিন্নমত থাকতেই পারে, কিন্তু পরস্পরের প্রতি সহনশীলও থাকতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচন নিয়ে অবিশ্বাসের মাত্রা বাড়ছে।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকী বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের অবস্থান তুলে ধরলেও এখনকার পরিস্থিতিতে জনগণ একটি বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের প্রত্যাশা করছে। একক ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা দেশে সংঘাত বাড়িয়ে তুলতে পারে।
ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রিয়াজ বলেন, ঐকমত্য কমিশন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের মতামতের ভিত্তিতেই সংস্কারের রুপরেখা দিয়েছে, কিন্তু কেউ কেউ তা ভিন্নভাবে উপস্থাপন করছে।
বৈঠকে ঐকমত্য কমিশনের সদস্য বদিউল আলম মজুমদার বলেন, লেজুর ভিত্তিক ছাত্র শিক্ষক শ্রমিক রাজনীতি থাকতে পারবে না, রাজনৈতিক দলগুলোর এমন সদিচ্ছা থাকতে হবে।