সন্দ্বীপে জলবায়ু পরিবর্তন ও জেন্ডার বৈষম্য—দুই গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কলেজ শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে একটি বিশেষ সেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার বেলা ১১টায় আবুল কাসেম হায়দার মহিলা কলেজে এই সেশন আয়োজন করে এসডিআই ও কোস্ট ফাউন্ডেশনের পার্টনারশিপে পরিচালিত ‘ক্লাইমেট চেইঞ্জ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স (CCR)’ প্রজেক্ট।
সভায় সভাপতিত্ব করেন উক্ত কলেজের অধ্যক্ষ মো. হানিফ। বিষয় ভিত্তিক সেশন পরিচালনা করেন সিসিআর প্রজেক্টের কমিউনিটি মোবিলাইজার বাদল রায় স্বাধীন।
সভায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রভাষক যথাক্রমে ঈসমাঈল ফরিদ, তৌহিদুল ইসলাম, অমিত রায়, আব্বাস উদ্দিন, মিজানুর রহমান, দিলরুবা খাতুন মারিয়া আক্তার, মুজাহিদ আহম্মেদসহ অন্যান্য শিক্ষক মন্ডলী।
সেশনে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে নতুন নতুন সংকট সৃষ্টি করছে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা, নদী ভাঙনসহ নানা সমস্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নারী, কিশোরী ও দুর্বল জনগোষ্ঠী। জলবায়ু দুর্যোগের সময় নারী ও শিশুর ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়, যা সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, জেন্ডার বৈষম্য কেবল সামাজিক সমস্যা নয়, এটি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও পুনরুদ্ধারকে আরও কঠিন করে তোলে। তাই জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার নীতি, পরিকল্পনা ও কর্মকৌশলে নারীর নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।
সেশনে শিক্ষার্থীদের জলবায়ু পরিবর্তনের বৈজ্ঞানিক কারণ–প্রভাব, জলবায়ু উদ্বাস্তু সংকট, পরিবেশবান্ধব আচরণ, প্লাস্টিক কমানো, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের পাশাপাশি জেন্ডার সমতা, নারীর অধিকার, সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর ভূমিকা ও সচেতন সমাজ গঠনে তরুণদের দায়িত্ব বিষয়ে ধারণা দেওয়া হয়।
অংশগ্রহণকারী ছাত্রীদের উদ্দেশে আয়োজক প্রতিষ্ঠান জানায়, ভবিষ্যত প্রজন্ম হিসেবে তারা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম। তাই পরিবেশ সুরক্ষা, মানবিক আচরণ, জেন্ডার–সেন্সিটিভ দৃষ্টিভঙ্গি এবং বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
সেশন শেষে শিক্ষার্থীরা জলবায়ু পরিবর্তন ও জেন্ডার সমতা বিষয়ে পোস্টার, ক্যাম্পেইন এবং কলেজ পর্যায়ে ইকো–ইউথ ক্লাব গঠনের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
আয়োজকরা জানান, উপকূলীয় অঞ্চলের নারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও জলবায়ু সহনশীল সমাজ গঠনে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।
প্রতিনিধি/একে