বিদেশি মোবাইল কোম্পানিকে অতিরিক্ত সুবিধা দিয়ে ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকাধীন গ্রামীণ টেলিকমের বাড়তি সুবিধা রেখে করা ‘টেলি কমিউনিকেশন নেটওয়ার্কিং এবং লাইসেন্স পলিসি’ কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। এই আইনের মাধ্যমে দেশের মোবাইল কোম্পানির স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে বলে রিটে উল্লেখ করা হয়।
রোববার রিটকারী আইনজীবী সানাউল্লাহ নুর রুল জারির এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে সাড়ে চার শর বেশি শিশুর মৃত্যু এবং প্রায় ৬০ হাজার শিশু আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে হামের টিকা ক্রয় করা হয়নি এবং টিকাদান কর্মসূচিও আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ছিল। এই ব্যর্থতার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচার চেয়ে আজ হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় একটি রিট আবেদন দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আশরাফুল ইসলাম।
রিটে ঘটনাটি তদন্তে কমিটি গঠন এবং সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ তৎকালীন উপদেষ্টা পরিষদের সব সদস্যের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে ড. ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের সব ধরনের কর্মকাণ্ডের তদন্ত চেয়ে করা অপর একটি রিটের শুনানি আজ শেষ হয়েছে। এই রিটের শুনানি শেষে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আদেশের জন্য আগামী বৃহস্পতিবার (২১ মে) দিন ধার্য করেছেন।
আদালত শুনানিকালে মন্তব্য করেন, আগামী বৃহস্পতিবার আদেশের পাশাপাশি হামের টিকার ব্যর্থতা ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া চুক্তিগুলো খতিয়ে দেখা হবে।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম কে রহমান ও রিটকারী আইনজীবী মহসিন রশীদ। রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
শুনানি শেষে আইনজীবী এম কে রহমান সাংবাদিকদের বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দেশের অর্থনীতি ও স্বাস্থ্যসহ সব ক্ষেত্রে এক ধরনের অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল। তাই ‘কমিশন অব ইনকোয়ারি অ্যাক্ট’ অনুযায়ী একটি তদন্ত কমিশন গঠন করা বাঞ্ছনীয়, যাতে ভবিষ্যতে কোনো নির্বাচিত সরকার এসেও এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে। আদালত সব বক্তব্য শুনেছেন এবং আগামী বৃহস্পতিবার আদেশের দিন রেখেছেন।
অন্য রিটকারী আইনজীবী মহসিন রশীদ বলেন, বিগত সরকারের আমলে যা কিছু ঘটেছে, আমরা তার সামগ্রিক তদন্ত চেয়েছি। তদন্তটি কীভাবে হবে তা সরকার নির্ধারণ করবে। রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী অ্যাটর্নি জেনারেল এ বিষয়ে সরকারের নির্দেশনা নেওয়ার জন্য সময় চেয়েছেন এবং আমরাও চাই তিনি যথাযথ নির্দেশনা নিয়ে আদালতে আসুন।
দেশবার্তা/একে