ইরানের বিরুদ্ধে যৌথভাবে পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করার জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই ইসলামিক রিপাবলিক ইরান নতুন করে বড় ধরনের হামলার মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টারা এরই মধ্যে নতুন করে হামলার বিশদ পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছেন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এখনো এই পরিকল্পনায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। ট্রাম্পের বিবেচনাধীন বিকল্পগুলোর মধ্যে ইরানের ওপর আরও আগ্রাসী বিমান হামলা চালানো এবং ইরানি পারমাণবিক স্থাপনা থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দ করতে বিশেষ বাহিনীর (স্পেশাল ফোর্সেস) স্থল অভিযানের মতো মারাত্মক বিষয়গুলো রয়েছে।
নতুন অভিযানের নামকরণ ‘অপারেশন স্লেজহ্যামার’
এদিকে আরেক মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ এক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যকার বর্তমান যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিল হলে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নতুন অভিযানের নাম ‘অপারেশন স্লেজহ্যামার’ রাখার কথা ভাবছে পেন্টাগন। নতুন এই অভিযানটি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র স্থলাভিষিক্ত হবে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের এই খবর বৈশ্বিক রাজনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন করে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। চলমান এই যুদ্ধের কারণে ইতিমধ্যে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে বিশ্ববাসী। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত ক্ষতির শিকার হচ্ছে এশিয়ার দেশগুলো।
যুদ্ধের ব্যয় নিয়ে ভিন্ন দাবি
এই যুদ্ধে দুই পক্ষেরই বিপুল ক্ষয়ক্ষতি ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে। পেন্টাগনের দেওয়া তথ্য মতে, এ পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছে ২৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে এই হিসাব মানতে নারাজ তেহরান।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দাবি করেছেন, এই যুদ্ধে মার্কিন ব্যয় ইতিমধ্যে ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
৪০ দিনের যুদ্ধে ব্যাপক প্রাণহানি
ইরানের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত ৪০ দিনের যুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ৩ হাজার ৩৭৫ জন ইরানি নাগরিক নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী।
এছাড়া দেশটির জরুরি চিকিৎসা বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধকালীন দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত হয়েছেন এবং প্রাণ হারিয়েছেন আরও ২৬ জন।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি ভেস্তে গিয়ে যদি নতুন করে ‘অপারেশন স্লেজহ্যামার’ শুরু হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।